দ্রব্যমূল্য নিয়ে কারসাজি হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা —বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ‘স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু বলেছেন, ‘স্মার্ট বাজার ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ভোগ্যপণ্য আমদানিকারক বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো কারসাজি করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ 

গতকাল সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা এবং আওতাধীন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘সিন্ডিকেটে বিশ্বাসী নই, তবে গুটিকয়েক বড় প্রতিষ্ঠান ভোগ্যপণ্য আমদানি করে। এসব প্রতিষ্ঠানকে সঠিক পথে আনতে হবে। এবার এসব প্রতিষ্ঠান কারসাজি করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘কারো বিরুদ্ধে জোর-জুলুম করে নয়, বরং উৎপাদন ও আমদানি পর্যায় থেকে ভোক্তা পর্যায়ে সঠিক উপায়ে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করে দ্রব্যমূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা হবে।’

পণ্য মজুদ করে কেউ কৃত্রিম সংকটের চেষ্টা করলে শক্তভাবে মোকাবেলার হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সরকার থেকে সবধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে চাই। ভয়-ভীতি নয়, আমরা সবাই আমাদের দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষ ভালো থাকুক এটাই সবানিজস্ব প্রতিবেদক I

গার্মেন্টস শিল্পের মতো চামড়া শিল্পেও রফতানি প্রণোদনা দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি। গতকাল রাজধানীর মতিঝিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্বভার গ্রহণ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। 

এ সময় শিল্প মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জাকিয়া সুলতানা, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। 

মন্ত্রী জানান, সার উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে আশুগঞ্জে পুরনো সার কারখানার স্থলে একটি আধুনিক সার কারখানা এবং ভোলায় একটি নতুন সার কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশক্রমে এ বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কর্মপরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। 

নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেন, ‘আমার নির্বাচনী ইশতেহার এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের স্বপ্নযাত্রা বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে শিল্প মন্ত্রণালয় এবং আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে। আমরা চিনিকলগুলো আধুনিকায়ন করে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চাই। লবণ শিল্পের উন্নয়নে কক্সবাজারে একটি লবণ ইনস্টিটিউট স্থাপন করা হবে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের দক্ষ সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে আমাদের টিম কাজ করে যাচ্ছে। দ্রব্যমূল্য সহনীয় রাখতে সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের সঙ্গে আমরা যৌথভাবে কাজ করব। আমি দেশের জন্য, দেশের জনগণের জন্য কাজ করতে চাই। আমার ওপর প্রধানমন্ত্রী আস্থা রেখে যে দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, তার প্রতিদান দিতে চাই।’ 

দ্বিতীয়বার শিল্পমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার পর গতকাল প্রথম দপ্তরে যান তিনি। মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের গত ১৫ বছরের অর্জন নিয়ে ‘সমৃদ্ধির ১৫ বছর’ শীর্ষক পুস্তকের মোড়ক উন্মোচন করেন। র প্রত্যাশা। তাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই সরকারের কাজ।’

আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘সরবরাহ ভালো থাকলে বাজারে কেউ কারসাজি করার সুযোগ পাবে না। আবার কোনো ব্যবসায়ী মহল উচ্চমূল্যে বিক্রিরও সুযোগ পাবে না। কারসাজি করে বাজার অস্থিতিশীল করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। মজুদদারদের শক্ত হাতে দমন করা হবে।’ তিনি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য মন্ত্রণালয় যেমন কৃষি, খাদ্য ও শিল্পসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তর-সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

আরও