বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম গত প্রায় দেড় মাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। শক্তিশালী ডলার ও যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সুদহার কমানোর বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কারণে এ দরপতন হয়েছে। নিকট ভবিষ্যতে সুদহার কমার সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীরা স্বর্ণের বাজারে বিনিয়োগ আগ্রহ কম দেখাচ্ছেন। এসবের সম্মিলিত কারণে বৈশ্বিক স্বর্ণের বাজারদরে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। খবর রয়টার্স।
স্পট মার্কেটে আজ স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি আউন্সের মূল্য নেমেছে ৪ হাজার ৭৬৪ ডলার ২৭ সেন্টে। যা গত ৬ ফেব্রুয়ারির পর মূল্যবান ধাতুটির সর্বনিম্ন দাম। এ সময় এপ্রিলে সরবরাহ চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৭৭০ ডলারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে এ পর্যন্ত স্বর্ণের দাম ৯ শতাংশের বেশি কমেছে।
বাজারে ডলারের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ক্রেতাদের জন্য স্বর্ণ বেচাকেনা এখন আগের চেয়ে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের উত্তেজনায় জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১০ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানি পণ্যটির এ চড়া দাম সরাসরি মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়লে স্বর্ণের চাহিদা বাড়ে। তবে বর্তমানে উচ্চ সুদহারের আশঙ্কায় এ মূল্যবান ধাতুর চাহিদা কমছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ‘ডলারের শক্তিশালী বিনিময় হার এবং জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে স্বর্ণের বাজার বর্তমানে অস্থির সময় পার করছে। এছাড়া অনেক বিনিয়োগকারী অন্য খাতের লোকসান মেটাতে স্বর্ণ বিক্রি করে দিচ্ছেন। সুদহার কমার প্রত্যাশাই ছিল স্বর্ণের দাম বাড়ার মূল ভিত্তি। কিন্তু জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই সম্ভাবনা কমে গেছে।’
ফেড ও ব্যাংক অব কানাডা গতকাল সুদহার অপরিবর্তিত রেখেছে। তবে উভয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকই মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। জ্বালানি তেলের চড়া দামের কারণে মূল্যস্ফীতি আরো দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক হাজার অতিরিক্ত সৈন্য মোতায়েনের কথা ভাবছে। এ অনিশ্চয়তার মধ্যেও সুদহার উচ্চ থাকার আশঙ্কাই স্বর্ণের বাজারকে নিম্নমুখী করে রেখেছে।