বাজেটে বিদ্যুৎ-জ্বালানিতে বরাদ্দ ২২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা

চলতি অর্থবছরে এ দুই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ জ্বালানির বরাদ্দ কমিয়ে করা হয় ২২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে আগামী ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ২২ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ দুই খাতে বরাদ্দ ছিল ৩০ হাজার ৩১৭ কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে বিদ্যুৎ জ্বালানির বরাদ্দ কমিয়ে করা হয় ২২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা।

প্রস্তাবিত বাজেটে বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়ন বরাদ্দ রাখা হয় ২০ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ হাজার ২৮৪ কোটি টাকা উন্নয়ন ব্যয় এবং বাকি ৫৮ কোটি টাকা পরিচালন ব্যয়। আর জ্বালানিতে ২ হাজার ১৭৮ কোটি টাকার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জ্বালানি খাতে উন্নয়ন ব্যয় রাখা হয়েছে ২ হাজার ৮৬ কোটি টাকা এবং পরিচালন ব্যয় ৯২ কোটি টাকা।

আজ সোমবার (২ জুন) বিকাল ৩টায় ৭ লাখ ৮৯ হাজার ৯৯৯ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয় ১০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। এজন্য বিদ্যুৎ খাতে প্রদত্ত ভর্তুকির পরিমাণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিদ্যুতের দাম আপাতত না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বছরের মধ্যেই অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৬৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করার এবং ২০২৮ সালের মধ্যে স্থানীয় কূপ থেকে অতিরিক্ত ১ হাজার ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নিজস্ব উদ্যোগে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৭-২৮ পর্যন্ত সময়ে বাপেক্স কর্তৃক প্রয়োজনীয় জরিপ কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এছাড়া মধ্যমেয়াদে বাপেক্সের নিজস্ব রিগ দ্বারা ৬৯টি কূপ খনন এবং ৩১টি কূপের ওয়ার্কওভার সম্পন্নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সালেহউদ্দিন পরিশোধিত তেলের চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর ৩ মিলিয়ন মেট্রিক টন অশোধিত তেল শোধন ক্ষমতাসম্পন্ন ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড, ইউনিট-২ স্থাপনের প্রকল্প গ্রহণের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে।

বিদ্যুতের বিশেষ আইন বাতিলের কথা উল্লেখ করে বাজেট বক্তৃতায় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বিদ্যুৎ খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০’ বাতিল করা হয়েছে। এ আইনের আওতায় ইতিপূর্বে সম্পাদিত চুক্তি পর্যালোচনার জন্য একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

আরও