বিরল খনিজে চীনা প্রভাব এড়াতে পশ্চিমের দরকার নিজস্ব বাজারদর?

চীনে ১৯৯৮ সালের একটি আইন অনুযায়ী, দেশটির সরকারের অনুমোদন ছাড়া খনিজের দাম প্রকাশ অবৈধ। এতে চীনের বাজার সূচকগুলো সবসময়ই জাতীয় স্বার্থ ও রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। পশ্চিম যখন বিরল খনিজের নিজস্ব সরবরাহ চেইন গড়ার চেষ্টা করছে, তখন চীন রফতানি কমিয়ে দিয়ে বা হঠাৎ দাম কমিয়ে দিয়ে এ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা রাখে

বর্তমান বিশ্বে আধুনিক প্রযুক্তি, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি (ইভি) ও উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরির মূল চালিকাশক্তি হলো বিরল খনিজ। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের খনিজের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে চীনের একক আধিপত্য পশ্চিমা দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে শুধু খনি থেকে খনিজের উত্তোলন বাড়ালেই এ সমস্যার সমাধান হবে না। চীনের চোকহোল্ড বা শ্বাসরোধকারী নিয়ন্ত্রণ থেকে বাঁচতে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রয়োজন নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা বা বাজারদর।

মূল্য নির্ধারণে চীনের একচেটিয়া ক্ষমতা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান এমপি মেটেরিয়ালস বর্তমানে রেকর্ড পরিমাণ নিওডিমিয়াম ও প্রাসিওডিমিয়াম উত্তোলন করছে। এ কোম্পানিকে লোকসান থেকে বাঁচাতে মার্কিন সরকার একটি ফ্লোর-প্রাইস বা সর্বনিম্ন বাজারমূল্যের নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু বড় সমস্যা হলো, এ খনিজগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারদর এখনো নির্ধারিত হয় চীনের সূচক (যেমন: এশিয়ান মেটাল বা সাংহাই মেটাল মার্কেট) অনুযায়ী। এর মানে হলো, খনিজগুলো যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হলেও এর দাম কত হবে, তা পরোক্ষভাবে বেইজিংয়ের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে।

আইনি বাধ্যবাধকতা ও বাজারের সীমাবদ্ধতা

চীনে ১৯৯৮ সালের একটি আইন অনুযায়ী, দেশটির সরকারের অনুমোদন ছাড়া খনিজের দাম প্রকাশ অবৈধ। এতে চীনের বাজার সূচকগুলো সবসময়ই জাতীয় স্বার্থ ও রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়। পশ্চিম যখন বিরল খনিজের নিজস্ব সরবরাহ চেইন গড়ার চেষ্টা করছে, তখন চীন রফতানি কমিয়ে দিয়ে বা হঠাৎ দাম কমিয়ে দিয়ে এ প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করার ক্ষমতা রাখে।

সমাধানের পথ

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনের এ আধিপত্য ভাঙার একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে লিথিয়াম। আগে লিথিয়ামের দামও চীনের বাজার দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হতো। কিন্তু ২০২১ সালে শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (সিএমই) লিথিয়ামের নিজস্ব লেনদেন ব্যবস্থা বা ফিউচার কন্ট্রাক্ট চালু করার পর চিত্র বদলে গেছে।

এখন পশ্চিমা কোম্পানিগুলো চীনের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেদের বাজার কাঠামোর মাধ্যমেই ঝুঁকি সামলাতে পারছে। বিরল খনিজের ক্ষেত্রেও এখন এমন একটি পশ্চিমা বাজার বা সূচক তৈরি করা সময়ের দাবি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিরল খনিজের লড়াই এখন আর কেবল খনি খনন বা উত্তোলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন বাজার নিয়ন্ত্রণের লড়াই। পশ্চিম যদি একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন বাজার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারে, তবে তাদের খনিজ নিরাপত্তা ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন চিরকাল বেইজিংয়ের মর্জির ওপর ঝুলে থাকবে। তাই প্রকৃত স্বনির্ভরতার জন্য নিজস্ব বাজারদর ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

রয়টার্স অবলম্বনে

আরও