দেশে চলমান হরতাল-অবরোধের কারণে ভোগ্যপণ্যের অন্যতম পাইকারি বাজার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে কমেছে পেঁয়াজ বিক্রি। পাশাপাশি ভারতীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে পণ্যটির। গত বুধ-বৃহস্পতিবারে কেজিপ্রতি ১১৫-১২০ টাকা বিক্রি হলেও গতকাল তা নেমেছে ৮০-৯২ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে ২৫-৩৫ টাকা দাম কমলেও খুচরা বাজারে সে তুলনায় সামান্য কমেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত সপ্তাহের শুরুতে খাতুনগঞ্জে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হলেও মাত্র এক-দুদিনের ব্যবধানে দাম ওঠে ১১৫-১২০ টাকায়। পরে আড়তে ভারতীয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করলে দাম নামতে শুরু করে।
গতকাল ভারতীয় নাসিক জাতের (নতুন) পেঁয়াজ ৯০-৯২ এবং পুরনো নাসিক বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকায়। আর মিয়ানমার থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০-৮৫ টাকায়। তবে বাজারে মিয়ানমার থেকে আসা পেঁয়াজের চাহিদা বেশ কম। এছাড়া নিম্নমানের ভারতীয় পেঁয়াজ কেজিপ্রতি ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিরোধী দলের টানা হরতাল-অবরোধের কারণে গত সপ্তাহের শুরুতে বাজারে পেঁয়াজের সংকট দেখা গিয়েছিল। তাছাড়া ভারত কিছুদিন আগে পেঁয়াজ রফতানিতে টনপ্রতি ২৮ ডলার দর বেঁধে দিয়েছে। হরতাল-অবরোধে পণ্য পরিবহন সমস্যা ও ভারতের এ শর্তের কারণে খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজ সরবরাহ কমে যায়। ফলে দামও বেড়ে যায়। তবে গত শুক্রবার খাতুনগঞ্জের আড়তগুলোয় পেঁয়াজ আসতে শুরু করেছে। এ কারণে দামও এখন কমতির দিকে।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারগুলোয় আমদানি করা পেঁয়াজের ৯০ শতাংশেরও বেশি আসে ভারত থেকে। তাছাড়া মিয়ানমারের কিছু পেঁয়াজ আছে বাজারে। তবে সেগুলোর বিক্রি নেই। বৃহস্পতিবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত দেশে হরতাল-অবরোধ না থাকায় দিনাজপুরের হিলি, সাতক্ষীরার ভোমরা ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ দিয়ে ভারতীয় পেঁয়াজবাহী ট্রাক প্রবেশ করেছে। একই সময়ের মধ্যে ১৩ টনের অন্তত ১০০টির বেশি পেঁয়াজবোঝাই ট্রাক খাতুনগঞ্জের আড়তে ঢুকেছে। সব মিলিয়ে দেশের বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ বেড়েছে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রামের কাঁচাপণ্যের সর্ববৃহৎ পাইকারি বাজার হামিদউল্লাহ মার্কেটের সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে ক্রেতার বেশ সংকট। বিক্রি না থাকায় এবং মজুদ বাড়ায় দাম কমেছে। খুচরা বাজারেও দাম কমে আসবে।’
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য বলছে, দেশে প্রতি বছর পেঁয়াজের চাহিদা প্রায় ৩০ লাখ টন। সর্বশেষ রবি মৌসুমে রেকর্ড ৩৪ লাখ টনের বেশি পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। বর্তমানে নতুন মৌসুমের জন্য পেঁয়াজ বুনছেন কৃষকরা। পেঁয়াজ পচনশীল পণ্য হওয়ায় এবং সংরক্ষণের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় ভোক্তা পর্যায়ে এক-চতুর্থাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায় কিংবা শুকিয়ে ওজন কমে যায়। ফলে দেশের বাজারে ঘাটতি দেখা দেয়ায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে বাধ্য হয় সরকার।