গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৬০ হাজার কোটি টাকা ছাপিয়ে দেয়া হয়েছিল, যার প্রভাবে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এছাড়া আগে যারা চাঁদাবাজি করত, তারা বর্তমানে না থাকলেও তাদের শূন্যস্থান অন্যরা পূরণ করেছে। এ অবস্থায় মূল্যস্ফীতি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল সচিবালয়ে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইএনডিপি) আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন লিলারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনডিপির অনেক উন্নয়ন প্রকল্প রয়েছে, বিশেষ করে জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে। ইউএনডিপির সহায়তার বেশির ভাগই হচ্ছে অনুদান। বিদ্যমান প্রকল্পের পাশাপাশি তারা নতুন প্রকল্প নিয়েও কথা বলেছে।’
তিনি জানান, সংস্কার কার্যক্রমে তারা সহায়তা করতে চায়। এছাড়া সবুজ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তারা সাহায্য করতে চায়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বর্তমানে তাদের অর্থায়ন রয়েছে। তারা আরো সাহায্য করতে চায়। ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণ হওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের শর্ত পালন করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারের ক্ষেত্রে তারা কারিগরি সহায়তা দিতে চায়। তারা সাহায্য করার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মূল্যস্ফীতির বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে আমরা একটা মেসেজ দিয়েছি, এটা কিছুটা কমেছে। সরবরাহের পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার বিষয়টি দেখব। আমরা কিন্তু সরবরাহ বন্ধ করিনি। সয়াবিন তেল ও রাইস ব্র্যান অয়েল আমদানির অনুমোদন দেব। সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। বাজারজাত করার ব্যাপারে ভোক্তার ওপর যাতে কোনো চাপ তৈরি না হয়।’
মূল্যস্ফীতি কমার কোনো প্রভাব বাজারে পরিলক্ষিত হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রভাব দেখতে চাইলে দেখতে পারবেন। একেবারে হুট করে নেমে যাওয়ার মতো অবস্থা তো হয়নি। মূল্যস্ফীতি বিভিন্ন কারণে হয়েছে, সেটি আপনারাও জানেন। ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো ছাপিয়ে দেয়া হয়েছে, যার কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। এটিকে আগের পর্যায়ে নিয়ে আসতে কিছুটা সময় লাগবে।’
দেশজুড়ে চাঁদাবাজির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি বন্ধ করার বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নয়। এখানে রাজনীতি আছে, সমাজের অনেক ভ্যালুজ আছে। তাছাড়া শূন্যস্থান সবসময়ই পূরণ হয়। যারা চলে গেছে তাদের শূন্যস্থান পূরণ করার জন্য আরো অনেক লোক আছে। এটি নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগবে। এজন্য সহযোগিতা লাগবে।’ এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।