দেশীয়ভাবে উৎপাদিত লবণে সাধারণত ৮৮-৯২ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে। আর্দ্রতা বা জলীয় অংশের পরিমাণ থাকে ৭ শতাংশের বেশি। সম্প্রতি আয়োডিনযুক্ত লবণের বিধিমালা ২০২৩-এর খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে। এ খসড়া বিধিতে বলা হয়েছে, আয়োডিনযুক্ত লবণে ন্যূনতম ৯৬ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড এবং অনধিক ৬ শতাংশ জলীয় অংশ থাকতে হবে। এছাড়া সর্বোচ্চ ১ শতাংশ পানিতে অদ্রবণীয় পদার্থ এবং সোডিয়াম ক্লোরাইড ব্যতীত সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পানিতে দ্রবণীয় পদার্থ থাকা যাবে।
এ খসড়ায় বলা হয়, আয়োডিনযুক্ত লবণে উৎপাদন পর্যায়ে ৩০-৫০ পিপিএম এবং খুচরা পর্যায়ে ২০-৫০ পিপিএম মাত্রায় আয়োডিন থাকতে হবে। ভোজ্য লবণে কোনো রঙ বা স্বাদযুক্ত কোনো কিছু মেশানো যাবে না। এছাড়া ভোজ্য লবণের প্যাকেট ৫০, ১০০ ও ২০০ গ্রাম হতে হবে। আর গৃহস্থালি বা রান্নার কাজে ব্যবহৃত ভোজ্য লবণের ক্ষেত্রে ৫০০ গ্রাম, ১ কেজি, ২ কেজি, ৫ কেজি ও ১০ কেজির প্যাকেট করা যাবে। তবে বাণিজ্যিক ভোজ্য লবণ বাল্ক হিসেবে প্যাকেট করা হলে বাল্ক প্যাকেটের পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ কেজি হতে পারবে। অর্থাৎ খোলা লবণ বিক্রির সুযোগ থাকবে না।
ভোজ্য লবণের ক্ষেত্রে আয়োডিনযুক্ত হলে আয়োডিনযুক্তকরণের তারিখ থেকে ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রয় বা বিতরণের মেয়াদ হতে পারবে সর্বোচ্চ দুই বছর। আয়োডিনযুক্ত লবণের প্যাকেট হতে হবে স্বচ্ছ ও ফুড গ্রেড মানসম্পন্ন। পলিথিন দ্বারা প্যাকেট তৈরি হলে এর পুরুত্ব কমপক্ষে পঁচাত্তর মাইক্রোমিটার হতে হবে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. এএফএম আমীর হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘খসড়া বিধিমালায় বিভিন্ন উপাদানের মাত্রা দেয়া হয়েছে। এরপর এটা জাতীয় লবণ কমিটি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে একটি মান দিতে পারবে। অর্থাৎ এ মান পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় পুষ্টি প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও মতামত দেবেন। লবণ কমিটি পরবর্তী সময়ে সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা করবে।’ তিনি বলেন, ‘এ বিধিমালায় লবণের গুণগতমান বজায় রাখার জন্য উৎপাদনের পর থেকে পরিশোধন, বিতরণ ও ভোক্তার পর্যায়ে তা যেন স্বাস্থ্যকর থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। খোলাবাজারে যে লবণ তার মধ্যে বিভিন্ন বালুকণা মিশে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। লবণে আয়োডিন যেন ঠিকঠাক থাকে, সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।’
যদিও দেশীয় মিল মালিকরা বলছেন, বড় কোম্পানিগুলোকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য খসড়া বিধিমালায় অনেক বিষয়ে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। দেশীয়ভাবে যে লবণ উৎপাদন হয়, সেখানে ৮৮-৯২% সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে। জলীয় অংশও ৭-১০ শতাংশ হয়। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী, ৯৬ শতাংশ সোডিয়াম ক্লোরাইড থাকে। কিন্তু দেশীয়ভাবে উৎপাদিত লবণে মাঠ পর্যায়েই সোডিয়াম ক্লোরাইড কম থাকে। কিন্তু সোডিয়াম ক্লোরাইড কম থাকলেও কোনো সমস্যা নেই।
বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি মান নিশ্চিত করতে। হয়তো একটু সময় লাগবে। আয়োডিনযুক্ত লবণের জন্য বিশ্বের কোথাও আইন করা হয়নি। এক কেজি আয়োডিনের দাম ৭ হাজার টাকা। এটা অনেকটা অপ্রয়োজনীয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘শুধু ভারতে ১৫ পিপিএম আয়োডিন যুক্ত করতে হয়। বাজারে আয়োডিনযুক্ত এবং আয়োডিন ছাড়াও লবণ থাকবে। যার যেটা প্রয়োজন সে সেটা নেবে। খোলাবাজারে লবণ বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। কিন্তু এতে মানুষ আর কম দামে লবণ কিনে খেতে পারবে না। ২৮ টাকার লবণ যদি ১০ টাকায় কেনা যায়, তাহলে সমস্যা কোথায়? আমাদের উৎপাদিত লবণের শিল্প ধ্বংস হওয়ার একটা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।’