গত বছর বিশ্বজুড়ে স্থাপিত মোট উইন্ড টারবাইনের ৭৯ শতাংশই সরবরাহ করেছে চীনের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজারের পাশাপাশি এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোয় চাহিদা বাড়ায় খাতটিতে চীনের হিস্যা এক বছরে আরো ৬ শতাংশ বেড়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
গ্লোবাল উইন্ড এনার্জি কাউন্সিলের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী চীনা কোম্পানিগুলোর স্থাপিত উইন্ড টারবাইনের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল প্রায় ১৪০ গিগাওয়াট। সরকারের আর্থিক সহায়তা ও নীতিমালার কারণে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজার যেমন বড় হয়েছে, তেমনি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রফতানিও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ উইন্ড টারবাইন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চীনের গোল্ডউইন্ড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিদেশী বাজার থেকে মুনাফা গত অর্থবছরে ৫০ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানির ক্রয়াদেশ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এমনকি জাপানের বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোয়ও এখন চীনা টারবাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। কম খরচ, ছোট লটে পণ্য সরবরাহের সুবিধা ও ইউরোপের বাজারে ভালো ট্র্যাক রেকর্ড থাকায় জাপানি কোম্পানিগুলো চীনা প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে।
তবে চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত মার্চে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে যুক্তরাজ্যের সরকার দেশটির অপারেটরদের মিং ইয়াংয়ের টারবাইন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। এর জবাবে চীনা কোম্পানিটি জানায়, এমন বিধিনিষেধের ফলে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খরচ আরো বাড়বে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপান সরকারও এখন জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর জোর দিচ্ছে। অফশোর (উপকূলবর্তী) বায়ুবিদ্যুতের ক্ষেত্রেও জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এমন একটি নিয়ম চালু করেছে, যেখানে স্থানীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে সরকারি টেন্ডারে বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে। এর অংশ হিসেবে জাপানের ‘জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং’ এখন স্থানীয়ভাবে উইন্ড টারবাইনের মূল ভিত্তি বা ‘মনোপাইল’ উৎপাদন শুরু করেছে, যা আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাবে।