ভোমরা স্থলবন্দরের এলসি স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প

বিকল্প ভবন না থাকায় ৫ মাসেও শুরু হয়নি কাজ

টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে কার্যাদেশ দেয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুল্ক স্টেশনের পুরনো স্থাপনা ছেড়ে না দেয়ায় কাজ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, দৈনন্দিন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিকল্প একটি বিল্ডিং ভাড়া নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া বিল্ডিং না পাওয়ায় পুরনো স্থাপনা ছেড়ে দেয়া বা অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উভয় সংকটে পড়েছে ভোমরা শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে কার্যাদেশ দেয়ার পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ শুরু হয়নি সাতক্ষীরার ভোমরা শুল্ক স্টেশনের নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্পের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুল্ক স্টেশনের পুরনো স্থাপনা ছেড়ে না দেয়ায় কাজ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। অন্যদিকে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, দৈনন্দিন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য বিকল্প একটি বিল্ডিং ভাড়া নেয়ার জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ভাড়া বিল্ডিং না পাওয়ায় পুরনো স্থাপনা ছেড়ে দেয়া বা অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে উভয় সংকটে পড়েছে ভোমরা শুল্ক স্টেশন কর্তৃপক্ষ।

সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভোমরা শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য ৪৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতক্ষীরা বিভাগীয় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট এবং ভোমরা এলসি স্টেশন নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্প-২০২০ টেন্ডার সম্পন্ন হয়ে গেছে। এ প্রকল্পের অধীনে ভোমরা শুল্ক স্টেশন এবং সাতক্ষীরা বিভাগীয় কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট অফিস নির্মাণ করা হবে।

সূত্রটি আরো জানায়, গত ৮ মার্চ প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। প্রথম পর্যায়ে ৩০ কোটি টাকা টেন্ডারের কাজ পেয়েছে খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এমএস বিল্ডার্স। টেন্ডার অনুযায়ী, ১৪ মাস মেয়াদ প্রকল্পটির জন্য সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গত এপ্রিলে কার্যাদেশ দেয়া হয়। কিন্তু ভোমরা শুল্ক স্টেশনের পুরনো স্থাপনায় দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্ব থাকা কাস্টমসের বিভাগীয় সহকারী কমিশনার মালেকিন নাসির আকন্দ বণিক বার্তাকে বলেন, ভোমরা শুল্ক স্টেশনের অবকাঠামো নির্মাণে উভয় সংকট দেখা দিয়েছে। প্রকল্পের কাজ যেমন দ্রুত শুরু করা দরকার, তেমনি এখনই পুরনো অবকাঠামো সরিয়ে নেয়াটাও মুশকিল। কারণ বর্তমান শুল্ক স্টেশনের অনেক পণ্য রয়েছে, যা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পৌঁছে দিতে হবে। তাছাড়া এখানকার যে পুরনো অবকাঠামো আছে তা নিলাম এবং ধ্বংস করে ফেলতে হবে। একই সঙ্গে চলমান দাপ্তরিক কাজকর্ম পরিচালনার জন্য বিকল্প ভাড়া বিল্ডিং চুক্তির প্রক্রিয়াও চলছে। সব মিলিয়ে হয়তো আরো দু-এক মাস লাগতে পারে পুরনো স্থাপনা ছেড়ে দিতে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস বিল্ডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. দাউদ হায়দার বলেন, বর্তমান ভোমরা শুল্ক স্টেশনের পুরনো যে অবকাঠামো আছে, তা সরিয়ে না ফেলা পর্যন্ত নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব নয়। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিগগিরই বিকল্প ভাড়া বিল্ডিংয়ে শুল্ক স্টেশনটি স্থানান্তর করা হবে। এটি হলে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

তবে প্রকল্পের কাজটি শুরু করতে পারলে খুব দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহীদুল ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ভোমরা শুল্ক স্টেশনের পুরনো স্থাপনাগুলো অপসারণ না হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কার্যাদেশ পেয়েও প্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারছে না। তবে ভোমরা শুল্ক স্টেশনের দায়িত্বরত কর্তৃপক্ষকে দ্রুত পুরনো স্থাপনা অপসারণের ব্যবস্থা করার জন্য তাগিদ দেয়া হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, স্থাপনা অপসারণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। তাছাড়া প্রকল্পটি তিন থেকে চারটি প্যাকেজে ভাগ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রথম প্যাকেজ ৩০ কোটি টাকার টেন্ডার সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকি টেন্ডার দ্রুত সম্পন্ন হবে।

আরও