বিশ্বজুড়ে দ্রুতই বাড়ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) চাহিদা। ফলে জ্বালানি খাতের বড় বড় কোম্পানির মধ্যে তেল-গ্যাস সম্পদ কেনার প্রতিযোগিতা পৌঁছেছে এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চে। পর্যাপ্ত সম্পদ না থাকায় এখন সীমিত সম্পদের মালিকানা নিতে ক্রেতাদের মধ্যে রীতিমতো চলছে লড়াই। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
জ্বালানি খাতের গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জির তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে গ্যাস উৎপাদন ও নতুন প্রকল্প ক্রয়ে ৩ হাজার ২০০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছে। ১০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছয় মাসের হিসেবে সর্বোচ্চ চুক্তি ও বিনিয়োগ।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার গ্যাস ক্ষেত্রগুলোর মূল্য বহুলাংশে বেড়ে গেছে। বিনিয়োগকারীরাও গ্যাস খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চাপ দিচ্ছেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলো নতুন সম্পদ কিনছে। মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজ দেশের বাইরে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের ব্যবসায় বৈচিত্র্য আনতে চাইছে। চলতি বছর উড ম্যাকেঞ্জির নির্ধারিত বাজারমূল্যের চেয়ে গড়ে ২১ শতাংশ বেশি দামে গ্যাস খাতের চুক্তিগুলো বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা ২০১৩ সালের পর সর্বোচ্চ।
২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সবচেয়ে বড় চুক্তিটি করেছে বহুজাতিক কোম্পানি শেল। তারা কানাডার শেল গ্যাস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এআরসি রিসোর্সেসকে ১ হাজার ৬৪০ কোটি ডলারে কিনে নিয়েছে। বিগত ১০ বছরে এটিই শেলের সবচেয়ে বড় চুক্তি।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) তথ্যানুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি তেলের তুলনায় গ্যাসের চাহিদার প্রবৃদ্ধি বেশি থাকবে। জলবায়ু নীতি কঠোর হলেও ২০৩৫ সালের আগে বিশ্বজুড়ে গ্যাসের চাহিদা কমার সম্ভাবনা নেই। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজির গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গেছে। কারণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা এবং কাতারের রফতানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ববাজার এখন বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ‘এডনক’ ও সৌদি আরবের ‘সৌদি আরামকো’ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে শত কোটি ডলারের গ্যাস প্রকল্পে অংশীদারত্ব বাড়িয়েছে। পাশাপাশি জাপানি কোম্পানিগুলো নিজ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাচ্ছে। তাই মার্কিন শেল গ্যাসের উৎপাদন খাতের ৩৬ শতাংশ ক্ষেত্র এখন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গানভোরও যুক্তরাষ্ট্রে নতুন প্রকল্প কেনার দৌড়ে রয়েছে।
বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান এনার্জি অ্যাসপেক্টস সতর্ক করে জানিয়েছে, গ্যাসের অতিরিক্ত উচ্চ মূল্য দীর্ঘস্থায়ী হলে এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলো বিকল্প জ্বালানি হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তি কিংবা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে।