রংপুর বিসিকে ছয় দশকেও হয়নি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট

রংপুর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরেও গড়ে ওঠেনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত বর্জ্য ফেলার জায়গা না থাকায় সেখানে বাড়ছে দূষণজনিত ঝুঁকি।

রংপুর বিসিক শিল্পনগরীতে প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরেও গড়ে ওঠেনি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত বর্জ্য ফেলার জায়গা না থাকায় সেখানে বাড়ছে দূষণজনিত ঝুঁকি। অন্যদিকে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও সার্ভিস চার্জসংক্রান্ত জটিলতায় বর্জ্য অপসারণ করে না। ফলে কারাখানাগুলোকে বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে নিজ উদ্যোগে। ভোগান্তির পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কারখানামালিকরা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংকটের পাশাপাশি এ শিল্পনগরীতে কারখানা পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের। দীর্ঘদিন ধরেই পানি সরবরাহ বন্ধ। বেহাল সড়কের কারণে শিল্পের কাঁচামালসহ পণ্য পরিবহনে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবে ঘটছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। 

এসব বিষয়ে বিসিকের শিল্পনগরী কর্মকর্তা মো. রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার জন্য আমরা সিটি করপোরেশনের সঙ্গে কথা বলেছি। এর মধ্যে আমরা এক হাজার ফুট রাস্তা এবং সমপরিমাণ ড্রেন নির্মাণ করেছি। আশা করছি ধারাবাহিকভাবে অন্যান্য সড়ক পাকাকরণ করার কাজ শুরু হবে। ২০১৬-১৭ সাল পর্যন্ত পানির সংযোগ স্বাভাবিক ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পানির লাইনের পাইপ স্থাপনের জন্য ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জারিন এন্টারপ্রাইজকে কাজ দেয়া হয়। তারা নানা টালবাহানা করে আজ পর্যন্ত কাজটি শেষ না করায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। শিল্পমালিক এবং শ্রমিকদের একাধিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় গত বছরের ১৯ নভেম্বর উপ-মহাব্যবস্থাপকের সভাপতিত্বে বৈঠক করে টহল পুলিশ মোতায়েনের জন্য রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করা হয়েছে।’ 

বিসিক সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তান আমলে রংপুর জেলার শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য সিটি করপোরেশন এলাকার ১৬ নং ওয়ার্ডের কেল্লাবন এলাকায় ২০ দশমিক ৭০ একর জমি বিসিক শিল্পনগরীর জন্য অধিগ্রহণ করা হয়। এতে ৮২টি প্লট আছে। প্লটগুলোর আয়তন সর্বনিম্ন ৩ হাজার ১৫০ স্কয়ার ফিট থেকে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার স্কয়ার ফিট। মোট শিল্প ইউনিট আছে ২৫টি। এর মধ্যে চালু আছে ২১টি ইউনিট। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট না থাকায় এসব শিল্প ইউনিটকে অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে নিজ উদ্যোগে বর্জ্য অপসারণ করতে হচ্ছে। ফলে বাড়ছে কারখানা পরিচালন ব্যয়। 

রংপুর বিসিক শিল্পনগরীর নয়টি প্লটে প্রাণ গ্রুপের রংপুর ফাউন্ড্রি লিমিটেডের বেশ কয়েকটি ইউনিট চালু আছে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন) মো. হাসান আলী বলেন, ‘এখানে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট স্থাপন জরুরি। এটি না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাদের কারখানায় উৎপাদিত বর্জ্য নিজেদের উদ্যোগে বাইরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে সময় এবং অর্থ—দুটোরই অপচয় হচ্ছে। 

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে না ওঠায় প্লটের যত্রতত্র বর্জ্য জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হচ্ছে। ড্রেনে বর্জ্য ফেলায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আবার জমে থাকা বর্জ্য বৃষ্টির পানিতে পাশের শ্যামা সুন্দরী খালে এসে পড়ছে। কখনো কখনো বর্জ্য সরাসরি খালে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। 

কারখানা মালিকরা বলছেন, প্রতি বছরই বিসিক কর্তৃপক্ষকে বড় অংকের সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। পরিশোধ করতে হয় ভূমিকর ও সিটি করপোরেশন করও। কিন্তু এর পরও কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধাই পাওয়া যাচ্ছে না। 

শিল্পনগরীতে অবস্থিত বিএডিসি আলুবীজ উৎপাদন জোনের উপপরিচালক মো. আব্দুল হাই বলেন, প্রতি বছর আলুবীজ রাখতে এবং নিতে অনেক ট্রাক কোল্ড স্টোরেজে আসে। কিন্তু বেহাল সড়কের কারণে ট্রাকে করে এসব বীজ পরিবহন করা দুরূহ হয়ে পড়েছে। অল্প বৃষ্টিতে এবং বর্ষার সময় এখানে চলাচল করাই কষ্টসাধ্য। 

বিভিন্ন সময় এসব সমস্যা সমাধানে বিসিকে লিখিত আবেদন করলেও সুফল পাওয়া যায়নি বলে দাবি কারখানা মালিকদের। আল আমিন ফার্নিচার লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. খাজা (বাবুল) বলেন, ‘সীমানা প্রাচীর এবং নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় প্রায় মাঝে মাঝে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে।’ দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণ এবং নিরাপত্তা প্রহরীর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শিল্পনগরী ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। 

আরও