এ অর্থে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, জীবিকা পুনরুদ্ধার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনর্বাসনে কাজ করা হবে। এ পুনরুদ্ধার ও পুনর্বাসন উদ্যোগের সূচনা উপলক্ষে গতকাল চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক স্বরূপ কুমার চৌধুরী, চট্টগ্রাম বিভাগের কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন এবং চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. মাহবুব উর রহমান এবং ব্র্যাকের দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি ও ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ইনোভেশন প্রোগ্রামের পরিচালক মো. লিয়াকত আলী।
বহুজাতিক ব্যাংকটি বলছে, সম্প্রতি ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা, পাহাড়ধস ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম বিভাগের ১০টি জেলার ১০ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যায় হাজার হাজার ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্যানিটেশন সুবিধা, পানির উৎস ও ফসলি জমি ক্ষতি হওয়ায় অনেক পরিবার এখনো জরুরি ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে এইচএসবিসি বাংলাদেশের অর্থায়নে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক সাত মাসব্যাপী একটি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর মধ্যে ছয় মাস মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা এবং এক মাস চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরিতে ব্যয় হবে। কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি ও জীবিকা—এ তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড, জেলার সাতকানিয়া ও বাঁশখালী এবং কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোয় এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০টি স্কুল মেরামত ও সংস্কারের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত ২৫০টি ঘরবাড়ি পুনর্নির্মাণ, ৪০০টি ল্যাট্রিন মেরামত ও স্থাপন এবং ৩০টি টিউবওয়েল সংস্কার করা হবে। এছাড়া ৩০০টি অসচ্ছল পরিবারকে জীবিকা পুনর্গঠনে সহায়তা দেয়া হবে। অন্যদিকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৬০০ কৃষক পরিবারকে প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে।
এইচএসবিসি বাংলাদেশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাত মাসের এ কর্মসূচিতে নারীপ্রধান পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি রয়েছে এমন পরিবার, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা এবং অন্যান্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। কার্যকর অংশীদারত্বের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু-সহনশীল সমাধান ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।