চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) এ বন্দর দিয়ে প্রায় ৪৩৭ কোটি ১৯ লাখ টাকা মূল্যের পণ্য রফতানি হয়েছে। তবে কিছু পণ্যের ওপর ভারতীয় নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল থাকায় পূর্ণমাত্রায় রফতানি সম্ভব হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
আখাউড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারতে ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা মূল্যের পণ্য রফতানি হয়েছে। রফতানীকৃত পণ্যের তালিকায় ছিল হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুঁটকি, পাথর, আটা ও ভোজ্যতেল। একই সময়ে ভারত থেকে আমদানি করা হয় মাত্র ১ কোটি ৯৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকার পণ্য, যার মধ্যে প্রধানত ছিল চাল, জিরা ও ধূপকাঠি। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ ৭১ লাখ ৩২ হাজার টাকা। এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে ৫১৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকার রফতানি; বিপরীতে আমদানি হয়েছিল ৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার পণ্য।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশের বেশকিছু উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্যের ওপর ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার কারণে রফতানি এখনো সীমিত। তারা এসব পণ্যের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সরকার যেন বন্দরটির মাধ্যমে নিষিদ্ধ নয় এমন পণ্য আমদানির অনুমতি দেয়।
১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত আখাউড়া স্থলবন্দর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডোর। তবে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী কূটনৈতিক উত্তেজনার জেরে দেশটি বেশকিছু পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে গত বছরের মে মাসের মাঝামাঝি থেকে প্লাস্টিকের আসবাবপত্র, পিভিসি পণ্য, তুলা, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য এবং ফল ও ফলের রস রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে আখাউড়া স্থলবন্দরের সামগ্রিক রফতানি প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে।
ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারতের কট্টরপন্থী জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর চাপে সেখানকার ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশী পণ্য এড়িয়ে চলছেন, যা বাণিজ্য স্বাভাবিকীকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি কমে যাওয়া প্রসঙ্গে আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনুমোদিত বেশির ভাগ পণ্যই ত্রিপুরার বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়, যা ব্যয় বাড়ায় ও লাভের পরিমাণ কমিয়ে দেয়, ফলে আমদানি নিরুৎসাহিত হয়।
আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজিব ভূঁইয়া দাবি করেন, ভারত কিছু পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলে রফতানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি নেসার উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পণ্য আমদানির চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার যদি নিষিদ্ধ নয় এমন পণ্য এ বন্দরের মাধ্যমে আনার অনুমতি দেয়, তাহলে আমদানি বাড়বে। সেই সঙ্গে রাজস্ব আহরণও বৃদ্ধি পাবে।’
আখাউড়া স্থলবন্দর শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, ‘শুল্ক কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়ীদের সহায়তা করছে এবং তাদের দাবিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে জানিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ভারতীয় নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন বাংলাদেশী পণ্যগুলো আগে বিপুল পরিমাণে রফতানি করা হতো। আমরা আশা করছি, দুই দেশের সরকার আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে।’