রমজানকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলগুলোতে গমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাড়তি এই চাহিদা পূরণে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে বেড়েছে আমদানি। তবে আমদানি বাড়লেও চাহিদা বেশি থাকায় বেড়েছে দাম। সাতদিনের ব্যবধানে কেজিপ্রতি গমের দাম চার থেকে পাঁচ টাকা করে বেড়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেনে বন্দরে গম কিনতে আসা পাইকার ও ব্যবসায়ীরা। আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর কারণে দেশের বাজারেও গমের দাম বেড়েছে।
স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে এক হাজার ২৮৪টি ট্রাকে ৫৩ হাজার ৪৪ টন গম আমদানি হয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে এক হাজার ১৪৮টি ট্রাকে ৩৯ হাজার ৪৩২ টন গম এসেছে। চলতি মার্চ মাসে আমদানির পরিমাণ আরো বেড়েছে।
দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ফ্লাওয়ার মিলগুলোতে দেশে উৎপাদিত গম দিয়ে চাহিদা না মেটায় বেশ কয়েক বছর ধরে ইউক্রেন ও রাশিয়া থেকে গম আমদানি হচ্ছিল। কিন্তু সম্প্রতি রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি বন্ধ রয়েছে। তেমনি ওই পথ দিয়ে অন্যকোনো দেশ থেকেও পানিপথে জাহাজে করে গম আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। তাই বিকল্প হিসেবে ভারত থেকে গম আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে দেশে বাড়তি গমের চাহিদাকে পুঁজি করে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এতে হঠাৎ করে গমের দাম বাড়ায় গম কিনতে এসে বিপাকে পড়ছেন পাইকাররা।
হিলি স্থলবন্দরে গম কিনতে আসা আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলগুলোতে গমের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আমরা হিলি বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া গম কিনে ফ্লাওয়ার মিলগুলোতে সরবরাহ করে থাকি। এর ওপর রমজানকে ঘিরে ফ্লাওয়ার মিলগুলোতে সেই চাহিদা আরো বেড়েছে। কিন্তু এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়ে গেছে। যে গম ২৭-২৮ টাকা কেজি দরে কিনেছি, তা এখন ৩২-৩৩ টাকা কেজি দরে কিনতে হচ্ছে। এতে করে আমরা খুব বিপাকে পড়েছি।
আমদানিকারক হায়াৎ মোহাম্মদ শেরেগুল বলেন, রমজানকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন ফ্লাওয়ার মিলগুলোতে গমের ব্যাপক চাহিদা থাকায় হিলি বন্দর দিয়ে গমের আমদানি বেড়েছে। তবে ইউক্রেন-রাশিয়ায় যুদ্ধের কারণে গম আমদানি সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে দেশের বাজারে গমের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে গম আমদানি করা হচ্ছে। ভারত থেকে গমের আমদানি অনেকে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গমের কিছুটা মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় ও দেশে গমের বাড়তি চাহিদা থাকায় ভারতীয় রফতানিকারকরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। আগে ভারত থেকে প্রতিটন ৩০৫ থেকে ৩১০ মার্কিন ডলার আমদানি করতাম। এখন সেই গম কিনতে ৩৩৯ থেকে ৩৪৫ ডলার গুনতে হচ্ছে। এ কারণে বাড়তি দামে গম আমদানির ফলে দেশের বাজারে দাম বেড়েছে। তবে কিছুদিনের মধ্যে দেশের গম বাজারে এলে সরবরাহ বাড়বে, দামও কমে আসবে।
বন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে গমের আমদানি কমতির দিকে ছিল। সেসময় গড়ে প্রতিদিন বন্দর দিয়ে ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক করে গম আমদানি হলেও জানুয়ারি থেকে শুরু করে মার্চ পর্যন্ত গম আমদানির পরিমাণ দ্বিগুণ হয়েছে। বর্তমানে বন্দর দিয়ে গড়ে প্রতিদিন ৬০-৭০ ট্রাক করে গম আসছে। বাড়তি গম আমদানির ফলে সরকারের রাজস্ব যেমন বেড়েছে তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষের দৈনন্দিন আয়ও বেড়েছে। আমদানিকারকদের চাহিদা অনুযায়ী সব প্রক্রিয়া শেষ করে বন্দর থেকে দ্রুত গম খালাস করে দেয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি