ইভির ক্ষতি পুষিয়ে নিতে প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে জিএম-ফোর্ড

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন চুক্তিতে অংশ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফোর্ড।

যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি শিল্পের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী জেনারেল মোটরস (জিএম) ও ফোর্ড মোটর। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে গাড়ি বিক্রি ও নানা ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করে আসছে প্রতিষ্ঠান দুটি। তবে এবার পরিবর্তন আসছে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে। গাড়ির বাজারের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি খাতে নতুন ব্যবসার সুযোগ খুঁজছে দুই অটোমোবাইল জায়ান্ট। যুক্তরাষ্ট্রের দুই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এখন গাড়ি তৈরির পাশাপাশি সামরিক যান ও বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ব্যবসায়ও ঢুকছে। খবর সিএনবিসি।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন চুক্তিতে অংশ নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে ফোর্ড। এর আগে একই পথে এগিয়েছে জিএম। ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে ব্যাপক উৎপাদন সক্ষমতা সামরিক খাতে কাজে লাগানোর আহ্বান জানানোর পর এ উদ্যোগ নেয় দুই গাড়ি নির্মাতা।

এখন পর্যন্ত কোম্পানি দুটির প্রতিরক্ষা ব্যবসার বড় অংশ সামরিক যান তৈরিকে ঘিরে। তবে ভবিষ্যতে এ ব্যবসার পরিধি আরো বাড়তে পারে। একই সময় এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম বা ইএসএসের বাজারেও প্রবেশ করছে জিএম ও ফোর্ড। বিদ্যুতের দাম বাড়া ও ডেটা সেন্টারের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের চাহিদা বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকরাও প্রতিরক্ষা ও এনার্জি স্টোরেজকে জিএম ও ফোর্ডের সম্ভাব্য নতুন প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্র হিসেবে দেখছেন। একসময় বিদ্যুচ্চালিত গাড়িকেই (ইভি) দুই কোম্পানির নতুন ব্যবসার বড় সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল। কিন্তু ইভি ব্যবসায় বড় অংকের অর্থ হারিয়েছে জিএম ও ফোর্ড। একই সঙ্গে ইভির চাহিদা প্রত্যাশামতো না বাড়ায় আগে ইভি ব্যাটারি তৈরির জন্য করা বড় বিনিয়োগ ও কারখানার সক্ষমতার পুরোটা কাজে লাগছে না।

মর্নিংস্টারের জ্যেষ্ঠ ইকুইটি বিশ্লেষক ডেভিড হুইস্টন বলেন, ‘দুই কোম্পানিই নতুন ব্যবসার ক্ষেত্র খুঁজছে। ফোর্ড প্রতিরক্ষা খাতে জিএমের পথ অনুসরণ করছে। কারণ ইভি উৎপাদনের জন্য তৈরি করা অনেক সক্ষমতা এখন আর আগের মতো প্রয়োজন হচ্ছে না। এসব কারখানা বিক্রি না করে নতুনভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।’

বিশ্বের এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের বাজারও দ্রুত বাড়ছে। গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল মার্কেট ইনসাইটসের হিসাবে, ২০২৪ সালে বিশ্বে ইএসএসের বাজার ছিল ৬৬৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের। ২০৩৪ সালে এ বাজার ৫ দশমিক ১২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রেও এ খাতের বড় ধরনের সম্প্রসারণের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এ সম্ভাবনাকেই কাজে লাগাতে চায় জিএম। প্রতিষ্ঠানটির এনার্জি ব্যবসা এখনো নিজস্ব ইএসএস পণ্য বাজারে আনেনি। তবে জিএমের সামরিক বিভাগ ইএসএস নিয়ে কাজ করছে। পাশাপাশি টেনেসিতে এলজি এনার্জি সলিউশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত আল্টিয়াম সেলস কারখানায় এনার্জি স্টোরেজের জন্য ব্যাটারি সেল তৈরি হচ্ছে।

ভবিষ্যতে এ ব্যবসা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানায় জিএম। ডেনভারের স্টার্টআপ পিক এনার্জির সঙ্গে মিলে পরবর্তী প্রজন্মের সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি তৈরির কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি। জিএমের ব্যাটারি ও সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কার্ট কেল্টি মনে করেন, গ্রিড পর্যায়ের এনার্জি স্টোরেজে এ প্রযুক্তি বড় পরিবর্তন আনতে পারে।

পুরোনো বৈদ্যুতিক গাড়ির বড় ব্যাটারিকে এনার্জি স্টোরেজে পুনর্ব্যবহারের জন্য রেডউড ম্যাটেরিয়ালসের সঙ্গেও কাজ করছে জিএম। পাশাপাশি বাড়ির জন্য ইভি চার্জিং ও এনার্জি স্টোরেজ সুবিধাও দিচ্ছে কোম্পানিটির এনার্জি ইউনিট।

ফোর্ডও এ খাতে বড় বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। গত ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, এনার্জি ব্যবসা চালু করতে ২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। এর অংশ হিসেবে কেনটাকিতে এসকে অনের সঙ্গে তৈরি করা একটি ব্যাটারি কারখানাকে এনার্জি স্টোরেজ ইউনিট তৈরির কারখানায় রূপান্তরের পরিকল্পনা চলছে।

আরও