মুদ্রাস্ফীতি সামলাতে সুদহার বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করল ফিলিপাইন

সুদহার বৃদ্ধির এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বেঞ্চমার্ক ওভারনাইট রিভার্স রেপো রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার পর গত এপ্রিলে সুদহার বাড়ানো শুরু করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপাইন’ (বিএসপি)।

মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মধ্যেও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নীতিগত সুদহার (যে সুদের হারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দেয়, তাকে নীতিগত সুদহার বা রেপো রেট বলা হয়) ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়াল ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত বৃহস্পতিবার ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। খবর নিক্কেই এশিয়া।

সুদহার বৃদ্ধির এ নতুন সিদ্ধান্তের ফলে দেশটির বেঞ্চমার্ক ওভারনাইট রিভার্স রেপো রেট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত বাড়ার পর গত এপ্রিলে সুদহার বাড়ানো শুরু করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ব্যাংকো সেন্ট্রাল এনজি ফিলিপাইন’ (বিএসপি)।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত তীব্র হওয়ার পর বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। ফলে ফিলিপাইনে পরিবহন ও জ্বালানি খরচ হঠাৎ বেড়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতি উসকে দেয়ার প্রধান কারণ। জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়ের প্রভাবে গত জুলাইয়ে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ২ শতাংশে। তবে এটি গত এপ্রিলে রেকর্ড ৭ দশমিক ২ শতাংশের চেয়ে কিছুটা কম। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে গড় মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৫ শতাংশ। এ হার ফিলিপাইন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সাধারণ মুদ্রাস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রা ২-৪ শতাংশের চেয়ে অনেক বেশি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত অবশ্য বাজার বিশ্লেষক ও অর্থনীতিবিদের পূর্বাভাসের সঙ্গে মিলে গেছে। স্থানীয় সংবাদপত্র ‘ফিলিপাইন ডেইলি ইনকোয়ারার’-এর এক জরিপে অংশ নেয়া ১৫ জন অর্থনীতিবিদের মধ্যে ১১ জনই নীতিগত সুদহার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

এক বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর ইলি রিমোলোনা জানান, মুদ্রাস্ফীতির ওপর চাপ অব্যাহত থাকলেও মধ্যমেয়াদে এটি আস্তে আস্তে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে জ্বালানির বাড়তি দামের কারণে পণ্যের দাম আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মুদ্রানীতি কঠোর করার ক্ষেত্রে ফিলিপাইনের নীতিনির্ধারকদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দেশটির ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (মে-জুলাই) ফিলিপাইনের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২ দশমিক ৩ শতাংশে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। মার্চে জ্বালানি সংকট শুরুর পর দেশের সাধারণ মানুষ ও সরকার উভয়েরই খরচ করার সক্ষমতা কমে গেছে। পাশাপাশি গত বছর শুরু হওয়া অবকাঠামো খাতের একটি বড় দুর্নীতির কেলেঙ্কারিও অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করেছে।

২০২৬ সালে দেশের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা পুনর্বিবেচনা করে ৩ দশমিক ৫ থেকে ৪ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবার কিছুটা গতি ফিরে পেতে পারে।

অবশ্য বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এখন সুদহার আর না বাড়িয়ে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। রাষ্ট্রীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ’-এর জ্যেষ্ঠ গবেষক জন পাওলো রিভেরা জানান, সুদহার আপাতত অপরিবর্তিত রাখাটাই ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতো। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবার না বাড়লে বা স্থানীয় মুদ্রার বড় ধরনের বিনিময় হারের পতন না ঘটলে এখনই সুদহার আর বাড়ানোর প্রয়োজন নেই। কারণ এটি দুর্বল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আরও