তামাবিল স্থলবন্দর

বন্দরে উন্নীত হলেও বাড়েনি সেবা

২০০২ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল শুল্কস্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার ১৫ বছর পর ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটের প্রথম এ স্থলবন্দরের উদ্বোধন করা হয়।

২০০২ সালে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার তামাবিল শুল্কস্টেশনকে স্থলবন্দর হিসেবে ঘোষণা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ঘোষণার ১৫ বছর পর ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে সিলেটের প্রথম এ স্থলবন্দরের উদ্বোধন করা হয়।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ স্থলবন্দর চালু করা হলেও বন্দরের সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আমদানি-রফতানিকারকরা। অতিরিক্ত ফির কারণে বন্দরের ডাম্পিং ইয়ার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। বন্দর এলাকার সড়কের অবস্থাও একেবারে নাজুক। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে বেড়ে যায় ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয়।

তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে মূলত কয়লা ও পাথর আমদানি হয়। তবে ভারতীয় পরিবেশ আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে বন্ধ রয়েছে কয়লা আমদানি। আর করোনার কারণে গত বছর দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল সব ধরণের আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। ফলে বন্দরে উন্নীত হওয়ার পর আমদানি-রফতানি কার্যক্রম বাড়ার বদলে আরো কমেছে।

তামাবিল স্থলবন্দরের একাধিক আমদানিকারক জানান, শুল্কস্টেশন থেকে তামাবিলকে স্থলবন্দরে উন্নীত করা হলেও কোনো বাড়তি সেবা পাচ্ছেন না আমদানিকারকরা। স্থলবন্দরের ডাম্পিং ইয়ার্ডও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে পণ্য আমদানির পর মজুদের জন্য ব্যক্তিগতভাবে ডাম্পিং ইয়ার্ডের ব্যবস্থা করতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, তামাবিল এলাকার সরকারি জমি দখল করে অনেক ব্যবসায়ী ডাম্পিং ইয়ার্ড তৈরি করেছেন। অনেকে বন বিভাগের জমি দখল করে গাছ কেটে মজুদ করেছেন আমদানীকৃত পাথর ও কয়লা। ফলে বিপর্যস্ত হচ্ছে ওই এলাকার পরিবেশ। স্থলবন্দর হওয়ার পরও এ অবস্থার উন্নতি হয়নি।

তামাবিল স্থলবন্দরসহ সিলেটের সব শুল্কস্টেশনের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির দাবিতে ১৬ জানুয়ারি সভা করে চেম্বারের আমদানি সাবকমিটি। এতে আমদানি-রফতানিকারকরা অংশ নিয়ে তাদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। স্থলবন্দর ও শুল্কস্টেশনগুলোয় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়া ও অপ্রতুল সুযোগ-সুবিধার কথাও জানান তারা।

সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব বলেন, সিলেটের ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ আমদানি-রফতানি ব্যবসায় জড়িত। সিলেটের বিভিন্ন স্থলবন্দর ও শুল্কস্টেশন দিয়ে পণ্য আমদানি হয়ে সারা দেশে সরবরাহ হয়ে থাকে। তাই সিলেটের আমদানি-রফতানিকারকদের সুবিধা-অসুবিধা দেখা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সিলেটের কোনো শুল্কস্টেশনে ওজন পরিমাপক যন্ত্র নেই। তামাবিল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ওজন পরিমাপক যন্ত্র থাকলেও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নেই। ফলে আমদানিকারকরা ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া তামাবিলে ডাম্পিং ইয়ার্ড খুবই অপ্রতুল। যেটুকু আছে, তার জন্যও অধিক মাশুল দিতে হয়। আগে এখানে ব্যাংকের কোনো শাখাও ছিল না। সম্প্রতি একটি ব্যাংকের শাখা চালু করা হয়েছে।

তামাবিল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, বন্দরের নিজস্ব ডাম্পিং ইয়ার্ড রয়েছে। এটি ব্যবহারের জন্য আলাদা ভাড়া দিতে হয়। প্রতি টন পণ্য রাখার জন্য প্রতিদিন ১০ টাকা করে ভাড়া দিতে হয়। কিন্তু ব্যবসায়ীরা এ ভাড়া দিতে নারাজ। এতে তাদের পণ্যমূল্য বেড়ে যাবে এ আশঙ্কায় তারা বন্দরের ডাম্পিং ইয়ার্ড ব্যবহার করছেন না।

এদিকে গত অর্থবছর এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রফতানি কমেছে। এতে কমেছে রাজস্ব আয়ও।

তামাবিল স্থলবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে এ বন্দর দিয়ে ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৫৬ টন পণ্য আমদানি হয়েছে। এতে রাজস্ব আদায় হয় ১৬ কোটি ১৭ লাখ ৭৪ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২০ সালে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ কোটি টাকা। তবে আদায় হয়েছে ১৪ কোটি ৮৬ লাখ ২৪ হাজার ৭৪৮ টাকা।

যদিও করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে গত বছরের ৩০ মার্চ থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে তিন মাস পণ্য আমদানি-রফতানি বন্ধ ছিল।

বন্দরের সহকারী পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, তামাবিল স্থলবন্দর দিয়ে এখন মূলত ভারত থেকে পাথর আমদানি হচ্ছে। এছাড়া ভুটান থেকে কিছু কমলা আমদানি করা হচ্ছে।

আরও