বাজেটে মাংস ও মাংসজাত পণ্যকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। মাংসজাত পণ্য নিত্যপ্রয়োজনীয় তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হলে এ খাতের ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে অগ্রিম আয়কর সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ থেকে কমে ২ শতাংশে নেমে আসবে। সম্প্রতি প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ দাবি জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিমকে।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মাংস উৎপাদন এবং সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তবে কর সুবিধা না পাওয়ায় এ সম্ভাবনাময় খাতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া এ খাতে ব্যবসায়ীদের সংগঠন হালাল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ সূত্রে জানা যায়, দেশে একাধিক প্রতিষ্ঠান বিশ্বমানের মাংস প্রক্রিয়াকরণ প্লান্ট স্থাপন করেছিল। তবে এখন অনেক প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত করের বোঝা ও কোনো রকম কর সুবিধা না পাওয়ার কারণে তাদের ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে। তাছাড়া দেশের মাংসের চাহিদার সিংহভাগই আসে অপ্রাতিষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠান থেকে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই রাজস্ব আওতার বাইরে রয়েছে।
প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাংস উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১০ থেকে ১২ শতাংশ গ্রস মার্জিনে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করছে। তবে হালাল মিট প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, মাংসের ব্যবসা থেকে ১-৩ শতাংশের বেশি নিট প্রফিট করা সম্ভব নয়। আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, মাংস ও মাংসজাত পণ্য সরবরাহের ওপর সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ উৎসে আয়কর নেয়া হচ্ছে, যা এ খাতের নিট মার্জিনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
অ্যাসোসিয়েশনটির মতে, এ খাতে অগ্রিম আয়কর বাধা সৃষ্টি করছে। অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ মওকুফ বা যথার্থভাবে নির্ধারণ করা দরকার। গত কয়েক বছর ধরে এ দাবি জানালেও তা বিবেচনায় নেয়নি এনবিআর। তবে এ বছর প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে দাবি তোলায় আশা দেখছে তারা।
আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চাল, ডাল, গম, ময়দা, চিনি, তেল, আলু, খেজুর, রসুন, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, পাট, সুতাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ২ শতাংশ উৎসে কর আদায় করে। এ তালিকায় মাংস ও মাংসজাত পণ্যকেও অন্তর্ভুক্ত করতে চায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। অন্তর্ভুক্ত হলে আমিষের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান তৈরি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।