দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে প্রতিশ্রুতি

আইসিসি বাংলাদেশ নেতৃত্বের সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ও গতিশীল সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ঐতিহাসিক বন্ধন, জনগণ-পর্যায়ের গভীর যোগাযোগ এবং দৃঢ় বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ও নির্বাহী বোর্ডের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সোমবার (২৩ জুন) আইসিসি বাংলাদেশ কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

আইসিসি বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের শক্তিশালী ও গতিশীল সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন, যা ঐতিহাসিক বন্ধন, জনগণ-পর্যায়ের গভীর যোগাযোগ এবং দৃঢ় বাণিজ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি যুক্তরাজ্যকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রফতানি গন্তব্য হিসেবে চিহ্নিত করেন, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্পে। পাশাপাশি বাংলাদেশের আর্থিক সেবা, জ্বালানি ও শিক্ষা খাতে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলোর সক্রিয় উপস্থিতির কথা তুলে ধরেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরো জোরদারের আশা প্রকাশ করেন।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উত্তরণের অগ্রগতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে রফতানি বৈচিত্র্যকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। হাইকমিশনার উল্লেখ করেন যে যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ রফতানি বাজার হিসেবে রয়ে গেছে এবং ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিম (ডিসিটিএস)-এর আওতায় বাংলাদেশের পণ্যের জন্য ২০২৯ সাল পর্যন্ত ৯৯.৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান অব্যাহত থাকবে। ২০২৯ সালের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্য এ স্কিমের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে, যার মধ্যে তৈরি পোশাক অন্যতম।

ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে হাইকমিশনার উচ্চশিক্ষা, জলবায়ু অর্থায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং বিমান চলাচল খাতের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। তিনি নারী উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন ও তাদের পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করতে বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রবর্তনে যুক্তরাজ্যের আরো সহায়তার আহ্বান জানান।

বৈঠকে আইসিসি বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এ কে আজাদ ও নাসের এজাজ বিজয় এবং নির্বাহী বোর্ড সদস্য যথাক্রমে আব্দুল হাই সরকার, আফতাব উল ইসলাম, আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), মো. ফজলুল হক, মীর নাসির হোসেন, সাঈদ আহমেদ, শওকত আজিজ রাসেল, সিমিন রহমান, ব্যাংকিং কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এ (রুমি) আলী, ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার এবং আইসিসি বাংলাদেশের মহাসচিব আতাউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। তারা হাইকমিশনারের উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রতিষ্ঠান-পর্যায়ের সম্পর্ক আরো গভীর করার আহ্বান জানান।

বৈঠকে আরো উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর (ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট) সাইয়াব আমল আহমেদ, আইসিসি বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার অজয় বিহারী সাহা এবং ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা শাহনেওয়াজ লতিকা।

আরও