কর্মহীন এক লাখ শ্রমিক

খেলনা শিল্পে হাজার কোটি টাকা লোকসানের শঙ্কা

শহর, গ্রাম বা মফস্বলে যেসব স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি হয়, তার ৮০ শতাংশই তৈরি হয় দেশে। তবে এসবের কাঁচামাল আসে চীন থেকে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে এসব কাঁচামাল আমদানি তিন মাস ধরে বন্ধ। অন্যদিকে দেশে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।

শহর, গ্রাম বা মফস্বলে যেসব স্বল্পমূল্যের প্লাস্টিকের খেলনা বিক্রি হয়, তার ৮০ শতাংশই তৈরি হয় দেশে। তবে এসবের কাঁচামাল আসে চীন থেকে। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) কারণে এসব কাঁচামাল আমদানি তিন মাস ধরে বন্ধ। অন্যদিকে দেশে ভাইরাসটির বিস্তার রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে পহেলা বৈশাখের সব অনুষ্ঠানসহ এ মৌসুমের বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য মেলা স্থগিত করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে খেলনা তৈরির পাঁচ শতাধিক কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এ খাতের প্রায় এক লাখ শ্রমিক, যার ৭০ শতাংশই আবার নারী। খাতসংশ্লিষ্ট সংগঠনের ডাটাবেজ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মরণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে এ খেলনা বা টয় শিল্প। একদিকে বাজার হারানো, অন্যদিকে পুঁজির অনিশ্চয়তা, দুটো মিলে লোকসানে এ খাতের হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টয় বা খেলনা শিল্পে বাজার চাঙ্গা থাকে বৈশাখ থেকে তিন মাস। তবে করোনার প্রভাবে বাঙালি সংস্কৃতির অন্যতম উৎসব পয়লা বৈশাখেও এবার থাকছে না কোনো রঙ-বেরঙের উচ্ছ্বাস। ঈদের আনন্দও যেন এখন থেকেই মলিন। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এ বছর খাতটিতে ১ হাজার কোটি টাকারও বেশি পরিমাণের বাজার হুমকির মুখে পড়বে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ টয় মার্চেন্ট, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহজাহান মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, বর্তমানে খেলনা প্রস্তুতকারীদের প্রচেষ্টায় ৮০ ভাগ খেলনা তৈরি হচ্ছে দেশে। তবে এর সব কাঁচামাল আসে চীন থেকে। করোনার কারণে তিন মাস এ কাঁচামাল আনা সম্ভব হচ্ছে না, গত এক মাস হলো কারখানা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে এ খাতের প্রায় এক লাখ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। অভাব আর অনাহারে দিন কাটাছে এ খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ জড়িত প্রায় ১০ লাখ মানুষ।

সংগঠনটির সভাপতি আরো বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ খাত চরম বিপজ্জনক অবস্থার সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা ও অনুদান থেকে এ শিল্প খাতে সহায়তার তহবিল প্রদানের জন্য সহযোগিতা চান উদ্যোক্তারা।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এখন থেকেই পরিকল্পনা না নিলে কভিড-১৯-এর আর্থিক ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কঠিন হবে। এজন্য দেশীয় পণ্যের চাহিদা বাড়ানো, সুষ্ঠু আর্থিক সহায়তা ও সময়োপযোগী উদ্যোক্তাবান্ধব নীতিমালার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো নাজনীন আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, কর্মহীন মানুষকে যেমন বাঁচিয়ে রাখার জন্যে খাদ্য দিতে হবে, তার পাশাপাশি যদি এ পরিস্থিতি চলতে থাকে, তবে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যেও একটা প্যাকেজ বরাদ্দ দিতে হবে। যেন তাদের কাছেও আমরা অর্থ সাহায্য পৌঁছে দিতে পারি।

তিনি আরো বলেন, দেশের অর্ধেক জনসংখ্যার কাছে যে পরিমাণ জাতীয় আয় আছে, শতকরা পাঁচ ভাগ ধনীর কাছে কিন্তু তার থেকে বেশি আছে। তাই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। সব মিলিয়ে একটি সমন্বিত উদ্যোগ খুব দ্রুত গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

তবে বর্তমান পরিবর্তিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় আগামী তিন মাস কর্মহীন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত মিলে প্রায় ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য ত্রাণ ও নগদ অর্থ বরাদ্দের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রস্তুতি নিয়েছি বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, আমাদের পর্যাপ্ত চাল মজুদ আছে। এর পর যদি প্রয়োজন হয়, সেটাও আমরা চালিয়ে নিতে পারব। প্রতিটি জেলায় তালিকা তৈরি করছে জেলা প্রশাসন। সে তালিকা অনুযায়ী ত্রাণ দেয়া হবে।

 

আরও