প্রণোদনা পাচ্ছেন ৪১ হাজার ২০০ কৃষক

সিরাজগঞ্জে রেকর্ড ৮৭ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ

সিরাজগঞ্জ জেলায় এবার রেকর্ড ৮৭ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ জেলায় এবার রেকর্ড ৮৭ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে আবাদি জমির পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর। এরই মধ্যে সরিষা গাছে ফুল ধরেছে। বছর তেলবীজটির ব্যাপক ফলনের প্রত্যাশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

কম সময় স্বল্প খরচের বিপরীতে লাভ বেশি হওয়ায় সরিষা উৎপাদনে ঝুঁকেছেন কৃষকরা। প্রতি বছরই ভালো ফলন আসায় জেলায় সরিষা আবাদি জমির পরিমাণও বাড়ছে। সরকারি প্রণোদনা অনুকূল আবহাওয়া থাকায় বছর সিরাজগঞ্জে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে সরিষা চাষ করেছেন কৃষকরা। দানাদার শস্যটির চাষ বাড়লে দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি অনেকটা কমে আসবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, গত বছর জেলায় ৬৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছিল। বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭ হাজার ২৩৯ হেক্টরে। হিসাবে গত বছরের চেয়ে এবার ২৩ হাজার ৭৩৯ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। গত বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৯৩ হাজার ৯৮০ টন। বছর আবাদি জমির পরিমাণ বাড়ায় উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে লাখ ৩০ হাজার ৮৬০ টন।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, সিরাজগঞ্জে লিটার হিসাবে গত বছর ৪০ হাজার লিটার সরিষা উৎপাদন হয়েছিল। বছর ৫৫ হাজার ৬১৬ লিটার সরিষা তেল উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

আমন উৎপাদনের পর তিন মাস পড়ে থাকা পতিত জমিতে বাড়তি লাভের আসায় সরিষা চাষ করেছেন অনেক কৃষক। চলনবিল অধ্যুষিত, নদীতীরবর্তী চরাঞ্চলের পলি মিশ্রিত জমি সরিষা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। সেচ, সার অন্যান্য খরচ কম হওয়ায় সরিষা চাষ করে গত বছরের মতো এবার লাভের আশা করছেন জেলার কৃষকরা।

কৃষি বিভাগ থেকে এক কেজি বীজ এবং বিভিন্ন ধরনের ৩০ কেজি সার পাওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলার তাড়াশ উপজেলার সগুনা ইউনিয়নের সরিষাচাষী আবুল হোসেন। তিনি বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে সরিষা চাষ করি। প্রতি বিঘায় ছয়-সাত মণ হারে ফলন আসে। দামও ভালো পাওয়া যায়। বছর এক বিঘা জমিতে বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করেছি। সরিষা তোলা শেষ হলে জমিতে বোরো ধান লাগাব।

সদর উপজেলার ছোনগাছা গ্রামের আব্দুল হাই তালুকদার বলেন, ‘প্রায় ১০ বছর ধরে সরিষার চাষ করি। এর আগে এক-দুই বিঘা জমিতে টরি- জাতের সরিষার আবাদ করতাম। ফলন হতো প্রতি বিঘায় তিন-চার মণ। কিন্তু চার বছর ধরে উন্নত বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করে বিঘাপ্রতি সাত-আট মণ ফলন পাচ্ছি। আর লাভবান হওয়ায় বছর পাঁচ বিঘা জমিতে উন্নত বারি-১৪ জাতের সরিষার আবাদ করছেন। ফলনও ভালো দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমি কৃষি বিভাগ থেকে কোনো সহযোগিতা পাইনি। তবে পরামর্শ পেয়েছি। সরিষার আবাদ উঠিয়ে বোরো ধানের আবাদ করা যায়। যার কারণে জমি ফেলে না রেখে সরিষা চাষ করি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক বাবলু কুমার সূত্রধর বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রোপা আমন, বোরো ধানসহ কোনো আবাদ যেন ব্যাহত না হয়, সে দিকে লক্ষ রেখে আমরা জেলায় সরিষার আবাদ বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। তবে বছর রেকর্ড ৮৭ হাজার ২৩৯ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হচ্ছে। গত বছর থেকে বছর প্রায় ২৪ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে সরিষার আবাদ হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘সরিষা আবাদ বৃদ্ধির জন্য জেলায় মোট ৪১ হাজার ২০০ কৃষককে এক কেজি করে বীজ এবং ৩০ কেজি করে বিভিন্ন ধরনের সার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বারি-১৪, বারি-১৭ এবং বারি-৯১ বিনা , এমন উন্নত জাতের সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। উন্নত জাতের সরিষা আবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করণ, প্রণোদনা দেয়ায় এবং কৃষক লাভবান হওয়ায় জেলায় সরিষার আবাদ প্রতি বছরই বাড়ছে। বছর সরিষার আবাদ বাড়ায় প্রায় ৫৬ হাজার লিটার সরিষার তেল উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ফলে দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি অনেকটা মিটবে বলে মনে করেন তিনি।

আরও