চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম মাস জুলাইয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কিছুটা কম হয়েছে। এ মাসে ৩০ হাজার ১১১ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২৭ হাজার ২৪৭ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আহরণ ঘাটতি প্রায় ২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ২১ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। বুধবার (২০ আগস্ট) এনবিআরের গবেষণা ও পরিসংখ্যান অনুবিভাগ থেকে এ সাময়িক হিসাব প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা কম আহরণ হয়েছে। এ মাসে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি এসেছে স্থানীয় পর্যায়ের সম্পূরক শুল্ক থেকে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দেড়গুণ বেড়েছে। অপরদিকে ভ্রমণ কর ও টার্নওভার কর আদায় একেবারেই হয়নি। কাস্টমস শাখা থেকে আহরণ হয়েছে ৯ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। ভ্যাট শাখা থেকে পাওয়া গেছে ১১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। আয়কর শাখা থেকে আদায় হয়েছে ৬ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরের জুলাই মাসে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ২১ হাজার ৯১৬ কোটি টাকা। সেই তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম মাসে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২৪.৩২ শতাংশ। গত অর্থবছরের জুলাই মাসে ভ্যাট আদায় হয়েছিল ৮ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা। এবার আদায় হয়েছে ১১ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩২ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
আয়কর খাতে গত অর্থবছরে আদায় হয়েছিল ৫ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এবার আদায় হয়েছে ৬ হাজার ২৯৪ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২১ দশমিক ৬৩ কোটি টাকা। কাস্টমস খাতে গত অর্থবছরের জুলাই মাসে ৮ হাজার ১৭০ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। এবার আদায় হয়েছে ৯ হাজার ৬০১ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ।
এনবিআর কর্মকর্তাদের মতে, আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট আহরণে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক প্রবৃদ্ধি রাজস্ব আদায়কে সামগ্রিকভাবে এগিয়ে নিয়েছে। অর্থনীতির সামগ্রিক চাপ, শুল্কনীতি পরিবর্তন ও ভোগ কমে যাওয়ার প্রভাব জুলাই মাসের রাজস্ব আদায়ে প্রতিফলিত হয়েছে।