প্রতিষ্ঠানের টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম কর করনীতির পরিপন্থী: আইসিএবি

আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার বলেন, আগামী বছর থেকে সব করদাতার অনলাইনে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা হচ্ছে। আমরা মনে করি অনলাইনে রিটার্ন জমা করদাতাদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। সব করদাতার অনলাইনে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা নিশ্চিত করা গেলে রিটার্ন জমাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

কোম্পানির লেনদেনের ওপর কর বা টার্নওভার কর দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের টার্নওভারের ওপর ন্যূনতম এ কর (মিনিমাম ট্যাক্স) করনীতির পরিপন্থী বলে জানিয়েছেন দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার। ব্যবসায়ে লাভ হলেই শুধু করযোগ্য আয়ের ওপর কর আরোপ করা উচিত বলে অভিমত তার।

বুধবার (৪ জুন) আইসিএবি অডিটোরিয়ামে বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

আইসিএবির প্রেসিডেন্ট মারিয়া হাওলাদার বলেন, আগামী বছর থেকে সব করদাতার অনলাইনে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন দেয়া বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা হচ্ছে। আমরা মনে করি অনলাইনে রিটার্ন জমা করদাতাদের কাছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। সব করদাতার অনলাইনে বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা নিশ্চিত করা গেলে রিটার্ন জমাকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ব্যক্তিশ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ করবর্ষের জন্য ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই সীমা সাড়ে ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো গেলে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর কিছুটা উপকার হতো। সরকারের উচিত কর জাল সম্প্রসারণ ও কর ফাঁকি রোধ করে কর আদায়ের চেষ্টা করা। কর ব্যবস্থাকে আরো প্রগতিশীল ও ন্যায়সঙ্গত করার জন্য সংস্কারও গ্রহণ করা প্রযোজন।

মারিয়া হাওলাদার বলেন, বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করার জন্য ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেয়া হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে, ২০২৬ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যমান কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে যেমন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিযোগের বাধা মোকাবেলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা অর্জন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষায় উচ্চতর বিনিয়োগ এসবের দিকে সরকারকে বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, কিছু পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানি ছাড়া নগদহীন কোম্পানির জন্য করের হার বৃদ্ধি করে ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এটি ২৫ শতাংশের মধ্যে থাকা উচিত ছিল বলে আমরা মনে করি। করমুক্ত আয়ের প্রাথমিক সীমা বৃদ্ধি এবং সিকিউরিটিজের সুদ থেকে উৎস কর্তন ৫ শতাংশ পুনঃপ্রবর্তন করা এবং অন্যান্য স্ল্যাবগুলোতে সীমা বৃদ্ধি করা যাতে এটি সত্যিই প্রগতিশীল হয়।

আইসিএবির প্রেসিডেন্ট বলেন, বাণিজ্যিক পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম ভ্যাট বৃদ্ধি করে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। অনলাইনে বিক্রয় থেকে কমিশনের ক্ষেত্রে ভ্যাটের হার ৫ থেকে বৃদ্ধি করে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে, যা সরকার আবারো বিবেচনা করতে পারে বলে আমরা মনে করছি। স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযোজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ক্ষেত্রে রেগুলেটরি ডিউটি (আরডি) আরোপ করা হয়েছে, যা সরকার পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

তিনি বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির দিক থেকে, দেশের মুদ্রাস্ফীতির হার ৯ দশমিক ১৭ শতাংশের বেশি, যা উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির ইঙ্গিত। মোট বাজেটের প্রায় ১২ দশমিক ২৫ শতাংশ অর্থাৎ ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে অর্থায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতির কারণ হতে পারে বলে আমরা মনে করছি।

সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের বিভিন্ন বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দেন এসএমএসি অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক স্নেহাশীষ বড়ুয়া।

আরও