পেট্রোবাংলার ২০ হাজার কোটি টাকা বকেয়া সমন্বয়ের উদ্যোগ মন্ত্রণালয়ের

পেট্রোবাংলার কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

পেট্রোবাংলার কাছে ২০ হাজার কোটি টাকার বকেয়া রাজস্ব বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ) মূসকের অব্যাহত তাগিদের পরিপ্রেক্ষিতে এ পদক্ষেপ নিচ্ছে তারা। সম্প্রতি এনবিআরকে দেয়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক চিঠি সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। 

ওই চিঠি সূত্রে আরো জানা যায়, এর আগেও একাধিকবার বকেয়া রাজস্ব পরিশোধের উদ্যোগ নেয়ার কথা বললেও অর্থ বিভাগ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এখন বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে বকেয়া রাজস্ব পরিশোধের কাজ সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। এজন্য এক চিঠিতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের জন্যও জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। 

ওই চিঠি সূত্রে আরো জানা যায়, আইওসি উৎপাদিত গ্যাস বিতরণের বিপরীতে আহরিত মূসক ও সম্পূরক শুল্ক এনবিআরকে পরিশোধ না করার কারণে জটিলতা তৈরি হয়। সেজন্য জটিলতা নিরসনে অর্থ বিভাগের মাধ্যমে সাবেক বিদ্যুৎ সচিবকে আহ্বায়ক করে কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের এপ্রিলের আগের বকেয়ার বিষয়ে বকেয়া দাবি কন্ট্রা এন্ট্রির মাধ্যমে সরকারের ফিসক্যাল অ্যাকাউন্টে জমা এবং প্রাইস-গ্যাপ অংশ গ্যাস খাতে বিনিয়োগ বা ভর্তুকি হিসেবে প্রদর্শন করে নিয়মিতকরণের সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে ২০১৭ সালের ১৪ মার্চ সাবেক অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বেও একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের দপ্তর থেকে নিরীক্ষা সম্পন্ন হওয়ার পর আগের বকেয়া পাওনা বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের বিষয়ে অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান কর্তৃক আধা সরকারি ডিও পত্রের মাধ্যমেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের বর্ণিত সিদ্ধান্তের বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে জানায়। 

চিঠিতে আরো বলা হয়, এনবিআর কর্তৃক ডিও পত্রের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের ২০২০ সালের ২৩ সেপ্টেম্বরের স্মারকমূলে পেট্রোবাংলার অনুকূলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ গ্রহণ অথবা বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য অনুরোধ করা হয়। তবে এখন পর্যন্ত অর্থ বিভাগ কর্তৃক কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য এলটিইউ কর্তৃক পেট্রোবাংলাকে অব্যাহতভাবে তাগিদ দিচ্ছে। এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৩৮তম বৈঠকেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে পেট্রোবাংলার সব বকেয়া সমন্বয় করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বলা হয়। এসব আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পেট্রোবাংলার কাছে বকেয়া রাজস্ব অর্থ বিভাগ কর্তৃক বুক অ্যাডজাস্টমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধের জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আয়োজনের জন্য জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

আরও