ছয় মাস বন্ধ থাকার পর অবশেষে চালু হলো সিলেটের কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জ শুল্কস্টেশন। গতকাল থেকে এ শুল্কস্টেশন দিয়ে আমদানি-রফতানি শুরু হয়। স্বাস্থ্যবিধি মেনে এদিন ভারত থেকে পাথরবোঝাই পাঁচটি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আর দু-একদিনের মধ্যে শুল্কস্টেশনটি দিয়ে পুরোদমে আমদানি-রফতানি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হওয়ার আগেই গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ভোলাগঞ্জ শুল্কস্টেশন দিয়ে সব ধরনের আমদানি-রফতানি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর করোনার সংক্রমণের কারণে প্রায় ছয় মাস বন্ধ ছিল শুল্কস্টেশনের কার্যক্রম। এতে বেকার হয়ে পড়েন এখানে কর্মরত শ্রমিকরা। ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।
শুল্কস্টেশনসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এ স্টেশন দিয়ে মূলত ভারত থেকে চুনাপাথর, পাথর ও কয়লা আমদানি হয়। এছাড়া কিছু ফলমূলও আমদানি হয়। এর বিপরীতে ভোলাগঞ্জ দিয়ে রফতানি হয় সামান্যই।
ভোলাগঞ্জ চুনাপাথর আমদানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান মিন্টু জানান, দীর্ঘদিন ধরে আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকার কারণে ব্যবসায়ীরা বেশ বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এই শুল্কস্টেশনসংশ্লিষ্ট কয়েক হাজার শ্রমিক তো মানবেতর জীবন যাপন করছেন। এছাড়া আমদানি-রফতানি বন্ধ থাকায় সরকারও কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি আরো জানান, কয়েক দিন ধরে এখানকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠন ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে কয়েকটি বিধি-নিষেধ মেনে এই শুল্কস্টেশন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ব্যাপারে শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা রাজিক মিয়া বলেন, দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ (গতকাল) থেকে এ বন্দর দিয়ে ফের আমদানি-রফতানি চালু হয়েছে। নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে সতর্কতা হিসেবে শুল্কস্টেশন প্রশাসনের উদ্যোগে এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের সহযোগিতায় পণ্য নিয়ে আসা ভারতীয় প্রতিটি ট্রাককে স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের সময় বাধ্যতামূলকভাবে স্যানিটাইজ করা হবে।