পপলার গাছ নিধন

কাশ্মীরের পেনসিল শিল্পে বিপর্যয়

কাশ্মীরের পেনসিল শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে চলেছে।

কাশ্মীরের পেনসিল শিল্প বড় ধরনের সংকটে পড়তে চলেছে। কয়েক বছর ধরে ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটি জুড়ে ব্যাপক হারে পপলার গাছ কাটায় এ খাতে কাঁচামালের সংকট দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরের পেনসিল কারখানার মালিকরা বলছেন, এভাবে যদি গাছকাটা অব্যাহত থাকে এবং নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে উৎপাদন বন্ধের আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। খবর দ্য বিজনেস লাইন।

কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার লাসিপোরা শিল্প কেন্দ্রে ১০-১২টি পেনসিল তৈরির কারখানা রয়েছে। এখান থেকে ভারতের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ড হিন্দুস্তান পেনসিলসকে কাঠের স্লেট সরবরাহ করা হয়, যা দিয়ে নটরাজ ও অপ্সরা ব্র্যান্ডের পেনসিল তৈরি করা হয়।

ভারতে পেনসিল শিল্প এরই মধ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২০২০ সালে জনপ্রিয় রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’-এ এ শিল্পের সাফল্য তুলে ধরেছিলেন। তবে কাশ্মীরের ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, পপলার কাঠের অভাবে তারা উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারবেন না।

স্থানীয় কারখানা মালিক মনজুর আহমদ আলী জানান, গত কয়েক বছরে হাজার হাজার পপলার গাছ কাটা হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের খালপাড়ে গাছ লাগানোর অনুমতি দিলে কাঁচামালের সংকট কিছুটা মিটবে।

কাশ্মীরি পপলার কাঠ তুলনামূলক নরম হওয়ায় পেনসিল তৈরির জন্য সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। ভারত সরকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০২০-২৫ সালের মধ্যে ৬ লাখ ৩৩ হাজার পপলার গাছ কাটা হয়েছে। এর অধিকাংশ ছিল রাশিয়ান প্রজাতির।

জম্মু ও কাশ্মীর হাইকোর্ট ২০১৫ সালে পপলার গাছ কাটার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কারণ এসব গাছের পরাগ মৌসুমি অ্যালার্জির কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। তবে ২০১৭ সালে শ্রীনগরের শ্রী মহারাজা হরি সিং হাসপাতালের (এসএমএইচএস) একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রকৃতপক্ষে এ অ্যালার্জির উৎস ছিল ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ।

২০২০ সালে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়া সত্ত্বেও পপলার গাছ কাটা থামেনি। অন্যদিকে নতুন গাছ লাগানো কমে গেছে। এতে পেনসিল শিল্প ও পরিবেশ দুই ক্ষেত্রেই দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন কাশ্মীরের সংশ্লিষ্টরা।

আরও