মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরির ক্রয়াদেশ পেয়েছে ভারতের তামিলনাড়ুর একটি প্রতিষ্ঠান। আগামী বছরের প্রথম দিকেই এসব যন্ত্রাংশ সরবরাহ করার জন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স প্রাইভেট লিমিটেড (এইপিএল) নামের প্রতিষ্ঠানটিকে। খবর দ্য প্রিন্ট।
রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের উপস্থিতিতে দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে এ বাণিজ্য চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজগুলোতে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উপাদান তৈরি করে সরবরাহ করা হবে।
এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার্স দীর্ঘদিন ধরেই এসব যন্ত্র তৈরি করে আসছে। তবে এবারই প্রথম বোয়িংয়ের কাছ থেকে ক্রয়াদেশ পেয়েছে সংস্থাটি। এক বিবৃতিতে তামিলনাড়ু সরকার বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষিত মেড ইন তামিলনাড়ু পরিকল্পনার পথে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল রাজ্যটি।
নতুন একটি কারখানা তৈরির জন্য এরই মধ্যে ১৫০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করেছে এইপিএল। হোসুরের এ কারখানায় আগামী দুই বছর কেবল বেসামরিক আকাশযানের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করা হবে। নতুন কারখানাটির আয়তন ১ লাখ ২৫ হাজার বর্গফুট। পাশাপাশি সালেমের পুরনো কারখানার আকারও ৫০ হাজার বর্গফুট বাড়ানো হবে। সব মিলিয়ে আরো এক হাজার তরুণের কাজের ক্ষেত্র তৈরি হবে বলেও জানিয়েছে রাজ্য সরকার।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর আর সুন্দারাম বলেন, বোয়িংয়ের সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমরা গর্বিত। এ চুক্তি আমাদের কাজের মান, নির্ভুল কাজ ও সহযোগী হিসেবে কাজ করার সংস্কৃতির প্রতি অঙ্গীকারের প্রমাণ। বোয়িংয়ের সঙ্গে এ চুক্তি গোটা রাজ্যের শিল্প খাতের জন্যই একটি মাইলফলক।
বোয়িং ইন্ডিয়ার সরবরাহ চেইন বিভাগের পরিচালক অশ্বিনী ভারগভ বলেন, ভারত সরকারের নেয়া আত্মনির্ভর ভারত গড়ে তোলার যে লক্ষ্য, তার দিকে এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এ দেশে বোয়িং সাত দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছে। দেশটির উন্নয়নেও সহযোগী হতে চায় বোয়িং। ভারতের নিজস্ব আকাশ ব্যবস্থাপনা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখতে চায়।
এক বিবৃতিতে এইপিএল জানিয়েছে, ২০২২ সালের প্রথম প্রান্তিক (জানুয়ারি-মার্চ) থেকেই বোয়িংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো সরবরাহ শুরু করা হবে। তিন দশকের বেশি সময় ধরে উড়োজাহাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও উচ্চমানসম্পন্ন যন্ত্র তৈরি করছে এইপিএল। এর মাধ্যমে আকাশ ও প্রতিরক্ষা শিল্প খাতে গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে সংস্থাটি। উৎপাদন খাতে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে বেশকিছু প্রত্যয়নও পেয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি এরই ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।