লোহিত সাগরের সংঘাত এরই মধ্যে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে জ্বালানি তেলসহ সব ধরনের পণ্যের বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে। প্রভাব এড়ায়নি গাড়ি খাতও। চলমান সংঘাতের কারণে উপকরণ সংকটে এবার উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি টেসলা ও গিলি। খবর নিক্কেই এশিয়া।
ইলোন মাস্কের মালিকানাধীন বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি নির্মাতা টেসলা ও চীনা কোম্পানি গিলির ভলভো কার সম্প্রতি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংকটের কারণে ইউরোপের কিছু কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রেখেছে প্রতিষ্ঠান দুটি।
যুদ্ধবিমান ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে হুথি বিদ্রোহীদের ওপর গত সপ্তাহে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। ইরান সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি আন্তর্জাতিক শিপিংয়ের ওপর হামলা করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। উদ্বেগ বৃদ্ধির কারণে চলতি সপ্তাহে কনটেইনার শিপিংয়ের ভাড়া আরো বেড়েছে। জামাকাপড় থেকে ফোন ও গাড়ির ব্যাটারি বহনকারী জাহাজকে প্রত্যাশার চেয়ে দীর্ঘ সময় পার করতে হচ্ছে। এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যাতায়াতে দ্রুততম রুট সুয়েজ খাল এড়িয়ে যাচ্ছে পণ্যবাহী জাহাজগুলো।
বিশ্বের অন্যতম বড় সরবরাহ চেইনের বিপর্যয় কভিড মহামারী-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে ঝুঁকি বাড়িয়েছে। সুয়েজ খাল দিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১২ শতাংশ কনটেইনার যাতায়াত করে।
এক বিবৃতিতে টেসলা জানিয়েছে, লোহিত সাগরে সশস্ত্র সংঘর্ষ এবং উত্তমাশা অন্তরীপের মধ্য দিয়ে পণ্য পরিবহন করায় বৈশ্বিক উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে। দীর্ঘ পরিবহন সময় সরবরাহ চেইনে একটি ফারাক তৈরি করছে।
কাঁচামাল সংকটের কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি টেসলা জানিয়েছে, ২৯ জানুয়ারি থেকে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্লিনের পাশে থাকা তাদের কারখানায় গাড়ি উৎপাদন বন্ধ থাকবে।
ভলভো কার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গিয়ারবক্সের বিলম্বিত সরবরাহের কারণে আগামী সপ্তাহে তিনদিনের জন্য বেলজিয়ামের ঘেন্টের কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রাখা হবে।
কিছু জাহাজ অপারেটর ইয়েমেনের হুথিদের ওপর মার্কিন ও ব্রিটিশ বিমান হামলার পর লোহিত সাগর পাড়ি দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কারণ এর মাধ্যমে গাজা-ইসরায়েল যুদ্ধ থেকে উদ্ভূত আঞ্চলিক সংঘাত বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
মায়েরস্ক ও হ্যাপাগ-লয়েডের মতো শিপিং জায়ান্টরা আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল রুটে জাহাজ চলাচল শুরু করেছে।
মায়েরস্ক সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা জাহাজগুলোর সম্ভাব্য পথ নতুন করে নির্ধারণ করছে, যা এশিয়া থেকে উত্তর ইউরোপের যাত্রায় প্রায় ১০ দিন এবং প্রায় ১০ লাখ ডলারের অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় যোগ করবে। অদূরভবিষ্যতে এ রুট স্থায়ী হবে।
বিক্রির দিক থেকে চীনের দ্বিতীয় বৃহত্তম অটোমেকার গিলি, সুইডিশ হোম ফার্নিশিং কোম্পানি আইকেইএ, ব্রিটিশ কাপড়ের খুচরা বিক্রেতা নেক্সটসহ অনেক কোম্পানি পণ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বিলম্বের বিষয়ে সতর্ক করেছে।
মার্কিন খুচরা বিক্রেতা টার্গেট অ্যান্ড ট্রাক্টর সাপ্লাই কোম্পানি সরবরাহজনিত বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। কোম্পানিটি ভারত ও পাকিস্তানের পণ্য পেতে বিলম্বের সম্মুখীন হচ্ছে। টার্গেট অ্যান্ড ট্র্যাক্টর সাপ্লাইয়ের চিফ সাপ্লাই চেইন অফিসার কলিন ইয়াঙ্কি বলেছেন, ‘কিছু পণ্যে দুই থেকে ২০ দিনের মতো দেরি হয়েছে।’
ফোরকাইটস কোম্পানির প্রডাক্ট ম্যানেজমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সেথ ফ্রেডেরিকসন বলেছেন, ‘যদি লোহিত সাগরের সংঘাত আরো দুই-তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে আমি এপ্রিল ও মে মাসে মজুদ পণ্যের ঘাটতি দেখতে পাব।’