এআই প্রযুক্তির বিস্তারে বিশ্বজুড়ে বাড়ছে বড় আকারের ডেটা সেন্টারের চাহিদা। এ সুযোগে বিনিয়োগকারীদের নজর পড়েছে আর্জেন্টিনার দুর্গম পাতাগোনিয়া অঞ্চলে। শীতল আবহাওয়া, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্ভাবনা, গ্যাসের মজুদ ও বিস্তীর্ণ খালি জমিসহ সব মিলিয়ে অঞ্চলটি বড় ডেটা সেন্টারের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। খবর রয়টার্স।
পাতাগোনিয়া দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তে অবস্থিত। দুর্গম পাহাড়, মরুভূমি ও বিশাল হিমবাহের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। এখন প্রযুক্তি খাতের বিনিয়োগকারীদের কাছেও এর গুরুত্ব বাড়ছে।
বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বা ‘হাইপারস্কেলার’ দ্রুত ডেটা সেন্টার নির্মাণের দিকে ঝুঁকছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এসব প্রকল্প স্থানীয়দের বিরোধিতার মুখে পড়ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনায় এখনো বড় ডেটা সেন্টারের প্রভাব খুব বেশি দেখা যায়নি। ফলে দেশটিতে এসব প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মতো বড় ধরনের বিরোধিতাও তৈরি হয়নি। বরং এআই খাতের সম্প্রসারণে ডেটা সেন্টারকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে দেখছেন অনেকে। এসব স্থাপনা স্থানীয় পর্যায়ে কর রাজস্বও বাড়াতে পারে।
পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করে এগুলোকে আরো পরিবেশবান্ধব করার সুযোগ রয়েছে।
দেশটির প্যাটাগোনিয়া অঞ্চলের নিউকেন প্রদেশে এমনই একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা করছে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান পাম্পা এনার্জিয়া। প্রতিষ্ঠানটির লোমা দে লা লাতা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশে ডেটা সেন্টারটি নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পাম্পা এনার্জিয়ার বিদ্যুৎ বিভাগের বাণিজ্যিক পরিচালক রুবেন তুরিয়েনজোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ডেটা সেন্টারটি সর্বোচ্চ ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারে। এ বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে কাছের ভাকা মুয়ের্তা শেল গ্যাসক্ষেত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় শেল গ্যাসের মজুদ।
তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নিউকেনের গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করে মাপুচে আদিবাসী জনগোষ্ঠী। অতীতে জ্বালানি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তাদের বিরোধ হয়েছে।
পাম্পা এনার্জিয়া জানায়, চলতি বছরের শুরুতে সম্ভাব্য ডেটা সেন্টার প্রকল্প নিয়ে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে আগ্রহ পাওয়ার পর তারা এ প্রকল্পের পরিকল্পনা শুরু করে। এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা প্রকল্পটি খুব বেশি জনসমক্ষে আসেনি।