কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরে সংঘাত

বাল্টিক সাগর দিয়ে শস্য রফতানি বাড়াচ্ছে রাশিয়া

রাশিয়ার শস্য রফতানির প্রধান কেন্দ্র কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের একের পর এক ড্রোন হামলায় এসব বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোয় শস্য রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিকল্প পথ হিসেবে বাল্টিক সাগরের বন্দর ব্যবহার বাড়াচ্ছে রাশিয়া। দেশটির রফতানিকারকরা রেলপথে বাল্টিক উপকূলের বন্দরগুলোয় শস্য নিয়ে যাচ্ছেন। এতে রাশিয়ার প্রধান শস্য রফতানি পথের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। খবর রয়টার্স ও ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।

রাশিয়ার শস্য রফতানির প্রধান কেন্দ্র কৃষ্ণ সাগরের বন্দরগুলো। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের একের পর এক ড্রোন হামলায় এসব বন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আগস্টের প্রথম কয়েক সপ্তাহে নোভোরোসিস্ক বন্দরের তিনটি শস্য টার্মিনালই হামলার পর কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। ফলে রফতানিকারকরা বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।

রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলের ভিসোৎস্ক ও উস্ত-লুগা বন্দরে শস্য ধারণক্ষমতা বছরে প্রায় ৭০ লাখ টন। এছাড়া সেন্ট পিটার্সবার্গ ও কালিনিনগ্রাদ বন্দর দিয়েও শস্য পাঠানো সম্ভব।

শিল্প খাতের একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত চলতি মৌসুমে বাল্টিক সাগরের বন্দরগুলোয় রেলপথে শস্য পাঠানোর অনুরোধের পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর বেশির ভাগই আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে পাঠানোর কথা। অন্যদিকে নোভোরোসিস্ক ও তুয়াপসে কৃষ্ণ সাগরীয় বন্দরে শস্য পাঠানোর অনুরোধ ছিল প্রায় ৬০ লাখ টন।

রাশিয়ার শস্য রফতানিতে কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের গুরুত্ব অনেক বেশি। গত রফতানি মৌসুমে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত, এসব বন্দর দিয়ে ৪ কোটি ৬৩ লাখ টন শস্য রফতানি করেছে রাশিয়া। দেশটির সমুদ্রপথে মোট শস্য রফতানির প্রায় ৯০ শতাংশই গেছে এসব বন্দর দিয়ে। বিপরীতে বাল্টিক সাগরের রুশ বন্দরগুলো দিয়ে রফতানি হয়েছে মাত্র প্রায় ১০ লাখ টন।

সম্পর্কের টানাপড়েন সত্ত্বেও প্রতিবেশী বাল্টিক দেশগুলোর মাধ্যমেও রাশিয়ার শস্য রফতানি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে লাটভিয়া অন্যতম। তবে গত মৌসুমে এসব দেশের মাধ্যমে রফতানি কমে প্রায় ১০ লাখ টনে নেমেছে, যা দুই বছর আগে ছিল ২৫ লাখ টন।

রুশ শস্য ইউনিয়নের প্রধান আরকাদি জলোচেভস্কি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বাল্টিক দেশগুলোর মাধ্যমে রাশিয়ার শস্য রফতানি ৫০-৬০ লাখ টনে পৌঁছতে পারে। এস্তোনিয়ার বন্দরগুলো ব্যবহার করা গেলে তা এক কোটি টনও হতে পারে।’

কিন্তু এ বিকল্প পথ কৃষ্ণ সাগর ও আজভ সাগরের বন্দরগুলোর পুরো ঘাটতি পূরণ করতে পারবে না। রাশিয়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় গম রফতানিকারক। মিসর, তুরস্ক ও সৌদি আরব দেশটির বড় ক্রেতা। ফলে রফতানি পথে এ অনিশ্চয়তা বিশ্ব শস্যবাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

আরও