বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রভাব বাড়াতে মরিয়া চীন। এর অংশ হিসেবে নিজেদের মুদ্রা ইউয়ানের আন্তর্জাতিকীকরণ বাড়াতে কয়েক বছরে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটি। এ প্রক্রিয়ায় চীনের বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল হংকংয়ে ডিজিটাল ইউয়ান ওয়ালেট চালু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়না। মূল ভূখণ্ডের বাইরে চীনা মুদ্রায় ওয়ালেট চালুর ঘটনা এবারই প্রথম। খবর নিক্কেইএশিয়া।
এ পরিষেবার আওতায় হংকংয়ের বাসিন্দারা নিজেদের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত চারটি ব্যাংকে ডিজিটাল ওয়ালেট খুলতে পারবেন। বৈধ মোবাইল নম্বর থাকলে ওয়ালেট ব্যবহারের সুবিধা পাবেন অঞ্চলটিতে বসবাসকারী বিদেশীরাও।
ওয়ালেটে ব্যক্তি পর্যায়ে লেনদেনের সীমা রাখা হয়েছে ১০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত, যেখানে একদিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ইউয়ান ও বছরে ৫০ হাজার ইউয়ান পর্যন্ত লেনদেন করা যাবে।
ফাস্টার পেমেন্ট সিস্টেম (এফপিএস) ব্যবহার করে ওয়ালেটে রিচার্জ করতে পারবেন ব্যবহারকারীরা। হংকং মনেটারি অথরিটি (এইচকেএমএ) ও ১৭টি রিটেইল ব্যাংকের তৈরি ইলেকট্রনিক পেমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচারটি দ্রুত রিচার্জের সুবিধা দেবে। এছাড়া ১১টি ব্যাংক তাৎক্ষণিকভাবে হংকং ডলার ও ইউয়ানের পারস্পরিক রূপান্তরের সেবা দেবে। বর্তমানে হংকংয়ে ডিজিটাল ইউয়ান ওয়ালেটে লেনদেন করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০০।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ডিজিটাল ওয়ালেট চালু ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে হংকংয়ের খুচরা বাজারে। সম্প্রতি রেস্তোরাঁ ও কেনাকাটার জন্য শেনঝেনসহ চীনের মূল ভূখণ্ডে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে অঞ্চলটির বাসিন্দাদের। ফলে বেচাবিক্রি কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হংকংয়ের বিক্রেতারা। ইউয়ান ওয়ালেট চালু হাওয়ায় এ অবস্থার কিছু উন্নতি হতে পারে।
এ বিষয়ে হংকং মনিটারি অথরিটির ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ হাওয়ার্ড লি বলেন, ‘এটি সাধারণ কোনো ডিজিটাল ওয়ালেট নয়, এটি পিপলস ব্যাংক অব চায়নার একটি উদ্যোগ। ক্রস-বর্ডার পেমেন্টের জন্য এ ওয়ালেট আরেকটি নিরাপদ ও সুবিধাজনক বিকল্প।’
চীনা কর্তৃপক্ষও আশা করছে, ডিজিটাল ইউয়ান ওয়ালেট চালুর মাধ্যমে বৃহত্তর চীন উপসাগরীয় অঞ্চল তথা হংকং, ম্যাকাও ও গুয়াংডং প্রদেশে চীনা মুদ্রায় লেনদেন বাড়বে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হংকংয়ের মর্যাদা আরো বাড়বে।
সব মিলিয়ে একে অঞ্চলগুলোয় চীনের প্রভাব বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।