ইউএসডিএর প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্রের আপল্যান্ড তুলা রফতানি কমেছে ৫৩ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানির বাজারে বড় ধরনের মন্দা দেখা দিয়েছে। দেশটির প্রধান ‘আপল্যান্ড’ জাতের তুলার সাপ্তাহিক নিট বিক্রি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে আপল্যান্ড ও প্রিমিয়াম পিমা—উভয় জাতের তুলার আন্তর্জাতিক চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে বাজারে বিক্রির গতি কমলেও মোট সরবরাহের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে। খবর ফাইবার টু ফ্যাশন।

ইউএসডিএর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলমান ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে আপল্যান্ড তুলার নিট সাপ্তাহিক বিক্রি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৮৩ হাজার ৯০০ রানিং বেলে (প্রতি বেলের ওজন ২২৬ কেজি ৮০ গ্রাম)। পরিমাণটি তার আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৫৩ শতাংশ এবং গত চার সপ্তাহের গড় বিক্রির চেয়ে ৫৪ শতাংশ কম। বৈশ্বিক বাজারে তুলার সামগ্রিক চাহিদা কমতির দিকে থাকলেও এশিয়ার বড় পোশাক ও সুতা উৎপাদনকারী দেশগুলো নিজেদের নিয়মিত আমদানি বজায় রেখেছে। আলোচ্য সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের তুলার সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল ভিয়েতনাম। দেশটি এককভাবে ৩১ হাজার ৩০০ রানিং বেল তুলা কেনার আদেশ দিয়েছে। এর পরের অবস্থানেই রয়েছে ভারত, যাদের ক্রয়ের পরিমাণ ১৪ হাজার ৩০০ রানিং বেল। বাংলাদেশের স্পিনিং ও টেক্সটাইল মিলগুলো ১৪ হাজার ২০০ রানিং বেল তুলা বুকিং দিয়ে তৃতীয় শীর্ষ ক্রেতার স্থান ধরে রেখেছে। এছাড়া চীন ৭ হাজার ৬০০ বেল এবং দক্ষিণ কোরিয়া ৪ হাজার ৫০০ বেল তুলা ক্রয়ের চুক্তি করেছে। তবে কিছু অজ্ঞাত গন্তব্য এবং নিকারাগুয়া থেকে আগের ক্রয়াদেশ বাতিল হওয়ায় মোট বিক্রির হিসাব কিছুটা কমেছে।

এদিকে আগামী ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষের জন্য নতুন মৌসুমের আপল্যান্ড তুলা বিক্রির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ১০০ রানিং বেলে। নতুন মৌসুমের তুলা কেনায় সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে চীন। দেশটি ১৩ হাজার ৫০০ রানিং বেলের বুকিং দিয়েছে। এর পরেই রয়েছে গুয়াতেমালা, ভিয়েতনাম, এল সালভাদর ও ইন্দোনেশিয়া।

বিক্রিতে মন্দা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের তুলা রফতানি ও সরবরাহের চিত্রটি ছিল কিছুটা ইতিবাচক। এ সপ্তাহে মোট আপল্যান্ড তুলা সরবরাহ ২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২০০ রানিং বেলে। ভিয়েতনাম সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ১ লাখ ২ হাজার ৮০০ রানিং বেল তুলা বুঝে পেয়েছে। এছাড়া পাকিস্তান ৪৮ হাজার ৬০০ বেল এবং বাংলাদেশ ২৫ হাজার ৯০০ রানিং বেল তুলা আমদানি করেছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রিমিয়াম মানের পিমা তুলার বৈশ্বিক চাহিদাও এ সপ্তাহে বেশ দুর্বল ছিল। চলতি মৌসুমের জন্য পিমা তুলার নিট বিক্রি ২১ শতাংশ কমে মাত্র ৪ হাজার ৩০০ রানিং বেলে নেমে এসেছে। পিমা তুলার বাজারেও শীর্ষস্থানে ছিল ভারত, যারা ২ হাজার রানিং বেল তুলা কিনেছে। তবে পিমা তুলার সরবরাহের পরিমাণ ৪১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ৮০০ রানিং বেলে। এর মধ্যে ভারত ৩ হাজার ৯০০ বেল এবং বাংলাদেশ মাত্র ৩০০ বেল পিমা তুলা আমদানি করেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে তুলার কেনাবেচা সাময়িকভাবে মন্থর হলেও বাংলাদেশ, ভারত ও ভিয়েতনামের মতো বড় পোশাক উৎপাদনকারী দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ চাহিদা সচল থাকায় বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

আরও