নতুন আয়কর আইন নিয়ে এফআইসিসিআইয়ের পর্যবেক্ষণ

বিদেশী ঋণের সুদসহ এক ডজন বিধি নিয়ে উদ্বেগ

বিদেশী ঋণের সুদসহ আয়কর আইনের এক ডজন বিধি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)।

বিদেশী ঋণের সুদসহ আয়কর আইনের এক ডজন বিধি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সংগঠন ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই)। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) পাঠানো সম্প্রতি আয়কর আইন ২০২৩-এর ওপর তাদের পর্যবেক্ষণ ও সংশোধনের জন্য সুপারিশে তারা এ দাবি জানায়। 

বিদেশী ঋণে সুদ ব্যয়ের সীমা নির্ধারণের বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছে এফআইসিসিআই। নতুন আয়কর আইন অনুযায়ী, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ব্যতীত কোনো নিবাসী ব্যক্তি কর্তৃক কোনো সহযোগী প্রতিষ্ঠান বরাবর কোনো কর বর্ষে সুদ ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে এনবিআরের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। এছাড়া সুদ ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে এনবিআর নির্ধারিত পদ্ধতি ও সীমা অনুযায়ী অনুমোদন দেবে। তবে কোনো আয়বর্ষে পরিশোধিত সুদের পরিমাণ ১৫ লাখ টাকার বেশি না হলে এ ধারা প্রযোজ্য হবে না।

আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪-এ এ রকম কোনো অননুমোদিত বিদেশী ঋণে সুদ ব্যয়ের সীমা নির্ধারিত ছিল না। এছাড়া এফআইসিসিআই তাদের সুপারিশের যথার্থতা হিসেবে উল্লেখ করেছে, বিদেশী ঋণের ক্ষেত্রে ফরেক্স রেগুলেশন অনুযায়ী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) থেকে অনুমোদন নিতে হয়। একই বিষয় আয়কর আইন ২০২৩-এর টিপি রেগুলেশন অনুযায়ী বৈধতা নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করছে এফআইসিসিআই।

এছাড়া সংগঠনটি তাদের সুপারিশে বলছে, কার্বোনেটেড বেভারেজের ওপর সর্বনিম্ন করহার ৫ শতাংশ করার বিধি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। তারা আগের মতোই এ খাতে দশমিক ৬ শতাংশ ন্যূনতম কর করার প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, কার্বোনেটেড বেভারেজ শিল্প দেশে সম্ভাবনাময় প্রবৃদ্ধির অন্যতম খাত। বার্ষিক এ খাতের ২০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এবং তিন লাখ লোকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান হয়েছে এ খাতে। তাদের মতে, এ খাতে টেকসই প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় বাধা আমদানি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক ও ভ্যাট। সব মিলিয়ে এ খাতে এসব কর দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও সবচেয়ে বেশি।

এফআইসিসিআই তাদের সুপারিশে আরো জানিয়েছে, নতুন আয়কর আইনে আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪-এর উৎসে কর সম্পর্কিত সব অধ্যায় বাতিল করা হয়েছে। ফলে নতুন বিধি অনুযায়ী কী ধরনের উৎসে করের হার হয়েছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এজন্য আয়কর অধ্যাদেশের ৫২(১) একই বিধি নতুন আয়কর আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংযুক্ত করার দাবি জানিয়েছে এফআইসিসিআই।

সুপারিশে পারকুইজিটের সংজ্ঞায় ইনসেনটিভ বোনাস অন্তর্ভুক্তির বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশে অনুযায়ী অতিরিক্ত পারকুইজিটের অনুমোদিত সীমা ১০ লাখ ছিল। তাদের মতে, ইনসেনটিভ বোনাস পারকুইজিটের সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা এনবিআরের দ্বৈত করের ধারা ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাহারের সঙ্গে বিপরীতমুখী অবস্থান।

নতুন আয়কর আইনের ৭০(৩) ধারা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে এফআইসিসিআই। ওই ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে, কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, হ্রাসকৃত করহার বা ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হয় এরূপ কোনো উৎসের বা খাতের ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা যাবে না। এফআইসিসিআই মনে করে এটা এনবিআরের অনিচ্ছাকৃত ভুল।

আয়কর আইনের ৫৫(ণ) ধারা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। ওই ধারা অনুযায়ী বিয়োজন অনুমোদন হবে না যদি ধারা ২৬৪-এর উপধারা ৩ দফা অনুযায়ী রিটার্ন জমার প্রমাণ দাখিলে বাধ্য এরূপ কোনো ব্যক্তিকে পরিশোধিত কোনো অংক, যদি অর্থ পরিশোধের সময় ওই ব্যক্তি রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়। 

এছাড়া তারা স্বীকৃত প্রভিডেন্ট ফান্ড, ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ড (ডব্লিউপিএফ), অনুমোদিত গ্রাচুইটি ফান্ড থেকে কর অব্যাহতির বিধান পুনরায় স্থাপনের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া প্রভিডেন্ট ফান্ড, পেনশন ফান্ড, গ্রাচুইটি ফান্ড এবং ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন ফান্ডের ওপর আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণপত্র দেয়ার বিধান প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এছাড়া ব্যক্তি করের ক্ষেত্রেও বিশেষ করে ব্যক্তির মূল বেতনের ওপর কর কাটার ওপর একাধিক সুপারিশ করেছে এফআইসিসিআই।

আরও