তবে দৈনিক ভিত্তিতে এ দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য পতন ও বৈশ্বিক চাহিদার ওঠানামার কারণে সপ্তাহ শেষে পণ্যটির সামগ্রিক দরপতন বা সাপ্তাহিক লোকসান ঠেকাতে পারেনি। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে আগামী সেপ্টেম্বরের পাম অয়েলের সরবরাহের চুক্তি মূল্য প্রতি টনে ৫০ রিঙ্গিত বা ১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। এ মূল্যবৃদ্ধির পর প্রতি টন পাম অয়েলের দাম দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১২২ ডলার ৮৪ সেন্টে (৪ হাজার ৬০৭ রিঙ্গিত)। তবে শুক্রবারের এ ইতিবাচক প্রবণতার পরও চলতি সপ্তাহে ভোজ্যতেলটির বাজারে সামগ্রিকভাবে ১ দশমিক ১০ শতাংশ দরপতন রেকর্ড করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের এ মূল্যবৃদ্ধি মূলত চীনের বাজারে অন্য উদ্ভিজ্জ তেলের দাম বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে সবচেয়ে সক্রিয় সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ৮৭ শতাংশ এবং পাম অয়েলের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে সয়াবিন তেলের দাম দশমিক ২৮ শতাংশ কমেছে। যেহেতু বিশ্ববাজারে হিস্যা ধরে রাখতে পাম অয়েল অন্য ভোজ্যতেলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতা করে, তাই সাধারণত এটি অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী তেলগুলোর দামের ওঠানামাকেই অনুসরণ করে।
সাপ্তাহিক দরপতন সত্ত্বেও চলতি মাসে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল রফতানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। স্বাধীন পরিদর্শন সংস্থা আমস্পেক এগ্রি মালয়েশিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ১-২৫ জুন পর্যন্ত সময়ে দেশটির পাম অয়েল রফতানি আগের চেয়ে ১১ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। একইভাবে কার্গো সমীক্ষক সংস্থা ইন্টারটেক টেস্টিং সার্ভিসেস জানিয়েছে, এ সময়ে মালয়েশিয়ার রফতানি চালান বেড়েছে ১০ দশমিক ৬ শতাংশ।
এদিকে শীর্ষ উৎপাদনকারী দেশগুলোর নীতিগত পরিবর্তনও বাজারে প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া তাদের বি-৫০ বায়োডিজেল নীতি বাস্তবায়নে নতুন নিয়ম জারি করেছে। দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, আগামী ১ জুলাই থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। তবে খুচরা বিক্রেতাদের বর্তমান মজুদ শেষ করার জন্য তিন মাসের একটি অন্তর্বর্তী সময় দেয়া হয়েছে।