প্রধানমন্ত্রী ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) বন্ধ মিল চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিটিএমসির বন্ধ মিলগুলো সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) আওতায় পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিইএ) ১৬টি মিল পিপিপির মাধ্যমে চালুর অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিল ও আহমেদ বাওয়ানী টেক্সটাইল মিল পিপিপির মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয়। প্রকল্পের জমি বুঝে নেয়ার স্বল্প সময়ের মধ্যেই মিল দুটির কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু পিপিপিতে হস্তান্তরের প্রায় চার বছর অতিক্রান্ত হলেও কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলের কার্যক্রম শুরু হয়নি। কভিড-১৯-এর কারণে জমি বন্ধক রেখে ব্যাংকঋণ নিতে না পারায় মিলটি চালুর কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। সম্প্রতি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, ‘কাদেরিয়া টেক্সটাইল এখন পর্যন্ত বিনিয়োগ শুরু করেনি। কভিড-১৯ পরিস্থিতির কারণে জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেয়ার সুযোগ না থাকায় একটু সমস্যার মধ্যে আছে মিলটি। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা সরাসরি ইউরোপ থেকে মেশিন ও যন্ত্রপাতি এনে কাজ শুরু করবে। তবে আহমেদ বাওয়ানী এরই মধ্যে উৎপাদনে আছে, রফতানি কার্যক্রমও চালিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘দ্বিতীয় ধাপে চারটি মিল চালুর বিজ্ঞপ্তি দেয়া হলেও দুটির বিষয়ে সাড়া পাওয়া গেছে। সেগুলো খুব দ্রুতই হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। আর অন্য দুটির বিষয়ে পুনরায় টেন্ডার আহ্বান করতে হবে। তৃতীয় ধাপে আরো দুটি প্রসেস হচ্ছে, এটা দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। এ আটটি শেষ হলে আরো আটটি অবশিষ্ট থাকবে। সেগুলোর বিষয়ে মামলা-মোকদ্দমা রয়েছে।’
সচিব জানান, এ মিলগুলোয় বিনিয়োগে বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি আগ্রহী নন। কভিড-১৯ পরিস্থিতি এবং যুদ্ধের কারণে যারা টাকা জমা দিয়েছিলেন তারাও বিনিয়োগে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। তিনটি মিল উৎপাদনে আছে কিন্তু পণ্য রফতানি করতে পারছে না।
বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলকে বেজার মতো সুবিধা দিতে বেজার চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সে অনুযায়ী অর্থ মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া প্রজেক্ট ফাইন্যান্সিংয়ের ব্যাপারে ১২টি ব্যাংকের সঙ্গে পিপিপি অথরিটির সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে। বিডা লাইসেন্স থেকে শুরু করে সর্বমোট আটটি লাইসেন্স হয়েছে। শুধু একটি লাইসেন্স প্রক্রিয়াধীন, যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে হয়ে যাবে। এরই মধ্যে জার্মানি থেকে তারা ৩৫০ কোটি টাকার লোন পেয়েছে। মূলত ফাইন্যান্সিংয়ের জন্যই তারা আটকে আছে।’
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিটিএমসির ১৬টি মিল চালুর সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে ঢাকার ডেমরায় অবস্থিত আহমেদ বাওয়ানী টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড ও গাজীপুরের টঙ্গীতে অবস্থিত কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড শীর্ষক প্রকল্প দুটি পিপিপির মাধ্যমে পরিচালনার অনুমোদন দেয়া হয়। ২০১৭ সালের ১৪ জুন অর্থনৈতিক বিষয়-সম্পর্কিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। আন্তর্জাতিক টেন্ডার প্রক্রিয়ায় ওরিয়ন কনসোর্টিয়াম কাদেরিয়া টেক্সটাইল মিল পরিচালনার জন্য নির্বাচিত হয়। ২০১৯ সালের ২১ জুলাই ওরিয়ন কাদেরিয়া টেক্সটাইলসের সঙ্গে বিটিএমসির চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর কাদেরিয়া টেক্সটাইলের জমি গ্রিন ফিল্ড হিসেবে ওরিয়নের কাছে হস্তান্তর করা হয়।