আমদানিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে। এপ্রিলে এ সমুদ্রবন্দরের অধীনে পণ্যবোঝাই কনটেইনার হ্যান্ডলিং (লোড) হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার টিইইউ (টুয়েন্টি ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট)।

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানিতে গতি ফিরতে শুরু করেছে। এপ্রিলে এ সমুদ্রবন্দরের অধীনে পণ্যবোঝাই কনটেইনার হ্যান্ডলিং (লোড) হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার টিইইউ (টুয়েন্টি ফুট ইকুইভ্যালেন্ট ইউনিট)। এর আগে শুধু মার্চ ও অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার হ্যান্ডলিং ১ লাখ ৪০ হাজার টিইইউর ঘর অতিক্রম করেছিল। 

আর্থিক মূল্য হিসেবেও এ চিত্রের প্রতিফলন হয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এপ্রিলে দেশের সব শুল্ক স্টেশন মিলিয়ে মোট যে আমদানি হয়েছে তার শুল্কায়িত মূল্য ৫৫ হাজার ৪৫৯ কোটি টাকা। এর আগে মার্চে ৫০ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা মূল্যের পণ্য আমদানি হয়েছিল দেশে। 

দেশের শীর্ষ পর্যায়ের উদ্যোক্তারা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও দেশে ডলার সংকটে আমদানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। তবে সেই চিত্র সম্প্রতি পাল্টাতে শুরু করেছে। এলসি সংকট কিছুটা কমে আসায় মূলত আমদানিতে ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে সংকট পুরোপুরি কেটে গেছে, এ কথা বলার সময় এখনো আসেনি। 

তাদের দাবি, অপরিহার্য নয় এমন পণ্যের ঋণপত্র খোলায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে হবে। শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্য ও ওষুধের মতো পণ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক রাখতে হবে। কারণ এ ধরনের অপরিহার্য পণ্যসহ মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানি বাড়ানো গেলে অর্থনীতিতে এর প্রভাবও দৃশ্যমান হবে দ্রুত। 

কাঁচামাল আমদানিতে বৃহৎ পরিসরে চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করছে বিএসআরএম গ্রুপ। গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমীর আলীহুসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বর্তমানে আমদানিতে এলসি সংকট কিছুটা কমেছে। যার ফলে আমদানি গত দুয়েক মাসে বেড়েছে। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে সবকিছু আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে গ্রাহকদের চাহিদায় এখনো ভাটা চলছে। এর সঙ্গে সরবরাহ ব্যবস্থা সরাসরি জড়িত। 

তিনি আরো বলেন, ‘পণ্য আমদানি স্বাভাবিক সময়ে যেভাবে হওয়ার কথা সেভাবে হচ্ছে, এটা বলার সুযোগ নেই। একটা সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে জেটি খালি পাওয়ার জন্য জাহাজকে দীর্ঘ সময়ে অপেক্ষায় থাকতে হতো বহির্নোঙরে, এতটাই চাপ ছিল। এখন তো জাহাজ আসা মাত্রই জেটিতে ভিড়ে যেতে পারছে। অর্থাৎ আমদানির আগের সেই চাপ এখনো বন্দরে দৃশ্যমান হয়নি। ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা তৈরি হওয়াসহ শিল্প-কারখানার জন্য কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি আমদানি পরিস্থিতি যত ইতিবাচক হবে, অর্থনীতিতেও তত দ্রুত এর প্রতিফলন দৃশ্যমান হবে।’

দেশের মোট কনটেইনারের ৯৮ শতাংশ পরিবহন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। সমুদ্রপথে পোশাকের কাঁচামালের পুরোটাই আনা হয় কনটেইনারে। চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি পরিবহন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) আমদানি হওয়া কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে মোট ১৪ লাখ ১৪ হাজার ৩৪৭ টিইইউ। এ হিসাবের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের মূল জেটির সঙ্গে আইসিডি, আইসিটির পণ্যভর্তি (লোড) ও খালি কনটেইনার হ্যান্ডলিংও যুক্ত করা হয়েছে। তবে খালি কনটেইনার বাদ দিয়ে হিসাব করলে কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ লাখ ৪২ হাজার টিইইউ। মাসভিত্তিক হিসাবে সর্বোচ্চ আমদানি পণ্যবোঝাই কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে মার্চে ১ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪৯ টিইইউ। 

এফবিসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট ও এম আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ ব্যাংকের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে হবে। বাণিজ্যিক আমদানির চেয়ে শিল্প খাতে উৎপাদন সংশ্লিষ্ট আমদানি যদি বৃদ্ধি পায়, তবে বলব তা সুখকর হবে। এতে করে বিনিয়োগও বেড়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতি ফিরে পাবে। শিল্প খাতের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়াতেই হবে। মূল কথা হলো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে দেশের বেসরকারি খাতকে উপযুক্ত নীতি ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে শক্তিশালী করতে হবে।’

আরও