মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবে সাশ্রয়ী জ্বালানি তেলে ঝুঁকছে চীন

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে চীন একটি অদৃশ্য সীমা নির্ধারণ করে দেয়। যখনই দাম কমে, তারা মজুত বাড়াতে বিপুল পরিমাণে ক্রয় করে। আবার দাম অস্বাভাবিক বাড়লে আমদানি কমিয়ে দেয়

বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় আমদানির কৌশল পরিবর্তন করছে চীন। বিশ্বের বৃহত্তম আমদানিকারক দেশটি এখন চড়া দামের বিকল্প হিসেবে তুলনামূলক সাশ্রয়ী বাজারের দিকে ঝুঁকছে। বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর বদলে রাশিয়া ও সৌদি আরবের জ্বালানি তেলের দিকে আগ্রহ বাড়ছে দেশটির। খবর রয়টার্স।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে চীন একটি অদৃশ্য সীমা নির্ধারণ করে দেয়। যখনই দাম কমে, তারা মজুত বাড়াতে বিপুল পরিমাণে ক্রয় করে। আবার দাম অস্বাভাবিক বাড়লে আমদানি কমিয়ে দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরে জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার আশঙ্কায় জ্বালানি পণ্যটির বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলে ৭২ ডলার ৫০ সেন্টে পৌঁছায়, যা গত বছরের ১৬ ডিসেম্বরের তুলনায় প্রায় ২৩ শতাংশ বেশি।

বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধির ফলে নাইজেরিয়া ও অ্যাঙ্গোলার মতো পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো থেকে জ্বালানি তেল আমদানি কমিয়ে দিয়েছে চীন।

পণ্যবাজার ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী বেলজিয়ামভিত্তিক শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) আফ্রিকা থেকে চীনের জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে আসবে। অথচ গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।

খরচ কমাতে ব্রেন্টের বদলে রাশিয়ার উরালস গ্রেডের সাশ্রয়ী জ্বালানি তেল বেশি কিনছে চীন। গত বছরের ডিসেম্বরে রাশিয়া থেকে যেখানে দৈনিক ৪ লাখ ৪৪ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল আসত, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেলে।

এশীয় দেশগুলোর জন্য জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম রফতানিকারক সৌদি আরব। এ সুযোগ নিতে দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছে চীন। মূলত রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং দেশটি থেকে ভারতের আমদানি কমিয়ে দেয়ার সুযোগটি কাজে লাগিয়ে বড় ছাড়ে সাশ্রয়ী জ্বালানি তেলের সংস্থান করছে বেইজিং। বাজার পরিস্থিতির এ পরিবর্তনের ফলে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি তেল উত্তোলনের তুলনায় সংগ্রহের উৎস পরিবর্তনের ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।

আরও