বিশ্বে ইন্টারনেট ব্যবহারী নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় ১২ শতাংশ কম। বাংলাদেশের মতো স্বল্পোন্নত দেশগুলোতে নারী ব্যবহারী পুরুষের তুলনায় ৩২ শতাংশ কম। বৃহস্পতিবার (৮ মে) ‘উইমেন ইন টেকনোলজি’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়। সেমিনারটির আয়োজন করে এফবিসিসিআই।
সেমিনারের কী-নোট স্পিকার ওরাকল বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং ডিরেক্টর রুবাবা দৌলা জানান, ইউনেস্কোর ২০২৩ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বে প্রকৌশল গ্রাজুয়েটদের মধ্যে মাত্র ২৮ শতাংশ নারী। বাংলাদেশে এসটিইম (সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথমেটিকস) গ্রাজুয়েটদের মধ্যে নারী মাত্র ১৪-২১ শতাংশ। এছাড়া বিশ্বের টেক প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র ৮ শতাংশের সিইও নারী।
টেকনোলজিতে নারীদের যুক্ত করলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নারীরা অবদান রাখতে পারবে জানিয়ে তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশনের (আইএফসি) তথ্যমতে- আফ্রিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ২০২৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে শুধু নারীরাই ই-কর্মাস মার্কেটে ৩০০ বিলিয়ন ডলার যুক্ত করতে পারবে। ফেসবুক নির্ভর ব্যবসাগুলোর ৭০ শতাংশের মালিক নারীরা। বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি ই-কমার্স সাইট ও বৃহৎ আকারে আনঅফিশিয়াল অনলাইন প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন বাংলাদেশী নারীরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, নারীরা এখন সবক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যখন পাবলিক সার্ভিসে জয়েন করেছিলাম তখন সারা দেশে খুঁজেও একজন নারী ইউএনও পাওয়া যেত না। এখন দেশের প্রায় ৩৪ শতাংশ ইউএনও-ই নারী। তিনি জানান, তার মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে নারী উন্নয়ন বিষয়ক ২১টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় নারীরা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিভিত্তিক জ্ঞান এবং দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পাচ্ছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, নারীদের তার পুরো জীবনেই নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। কর্মক্ষেত্র থেকে ঘর, সমাজ, সংস্কৃতি সব জায়গায় তার জন্য নানা চ্যালেঞ্জ থাকে। এ সেমিনারে নারী উদ্যোক্তা এমন কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা শিখতে পারবেন যা বই পড়ে শেখা যায় না। এখানে সফল উদ্যোক্তারা আছেন। তাদের কাছ থেকে সফল হওয়ার পথের নানা বাধা ও বাধা ডিঙিয়ে সফল হওয়ার শিক্ষা পাবেন। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনে নারীদের যুক্ত করতে হলে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে।
সেমিনারে সৌদি আরবের স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ ‘এসডিএম’র প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সেলওয়া আল হাজ্জার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অংশ নেন। এ সময় ড. সেলওয়া আল হাজ্জা বলেন, সৌদি আরবে এক ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সেখানকার নারীরা এখন বাইরে বের হচ্ছে, দেশ-বিদেশ ঘুরছে। তারা ড্রাইভিং করছে, ব্যবসা করছে। নারীরা টেকনোলজিতে আগ্রহী হচ্ছে। ৩৮ শতাংশ সৌদি নারীর আগ্রহ টেকনোলজিতে। তারা নারীর ক্ষমতায়ন চাচ্ছে। শুধু পুরুষকে দিয়ে আপনি উন্নয়ন করতে পারবেন না। এমনটি করলে আপনার ৫০ শতাংশ মানবশক্তি অব্যবহৃত থেকে গেল। আমরা সমাজের অংশ হতে চাই। নারী-পুরুষ উভয়কে কাজে লাগালে আপনার শতভাগ মানবসম্পদ কাজে লাগল। ফলে উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক হাফিজুর রহমান। তিনি বলেন,
দেশে অনেক নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন। কোনো না কোনোভাবে তাদের প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হচ্ছে। এখানে টেকনোলজিতে দক্ষ সৌদি আরবের সেলওয়া আল হাজ্জার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আশা করছি, তার অভিজ্ঞতা আমাদের উদ্যোক্তাদের কাজে লাগবে। এ সেমিনারের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক ব্যবসায় প্রবেশের পথ আরো মসৃণ হবে।
নারীরা শিক্ষায় পিছিয়ে আছেন জানিয়ে মিড টেলিকম লিমিটেডের পরিচালক মেহেরিন নাসির বলেন, আমি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়েছি। আমার ক্লাসে ১০০ জন শিক্ষার্থী ছিল। এর মধ্যে ৯৫ জন ছেলে আর মাত্র ৫ জন নারী ছিলাম। মানে ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থীই ছিল ছেলে। নারীরা শিক্ষায় পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না।
সেমিনারের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন শেয়ারট্রিপের সিইও সাদিয়া হক, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের হেড অব সাসটেইনেবিলিটি সুমাইয়া তাবাসসুম আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব হেলথ সায়েন্সেসের হেলথ ইনফরমেটিকস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম।