বিশ্বব্যাপী ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে ভুট্টার উৎপাদন নিয়ে পূর্বাভাস কিছুটা বাড়িয়েছে আন্তর্জাতিক শস্য পরিষদ (আইজিসি)। তবে আগের বছরের তুলনায় এবার উৎপাদন ৩ শতাংশ কম হতে পারে। একইসঙ্গে গমসহ অন্যান্য শস্যের মোট উৎপাদনও কমার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। খবর ওয়ার্ল্ড-গ্রেইন ডটকম।
আইজিসির সর্বশেষ গ্রেইন মার্কেট রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে ভুট্টার উৎপাদন বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৩০ কোটি ৭০ লাখ টনে। সেপ্টেম্বরে সংস্থাটির পূর্বাভাস ছিল ১৩০ কোটি ১০ লাখ টন। ২০২৫-২৬ বিপণন বর্ষে ভুট্টার উৎপাদন ছিল ১৩৪ কোটি ৭০ লাখ টন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে বিশ্বে গম ও মোটা দানার শস্য মিলিয়ে মোট উৎপাদন হতে পারে ২৪২ কোটি ৭০ লাখ টন। আগের বিপণন বর্ষে এ পরিমাণ ছিল ২৪৯ কোটি ৫০ লাখ টন।
এদিকে গমের উৎপাদন নিয়ে পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রেখেছে আইজিসি। সংস্থাটির হিসাবে, চলতি বিপণন বর্ষে বিশ্বে গম উৎপাদন হতে পারে ৮২ কোটি টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ কম।
বিশ্বে গম ও ভুট্টার ব্যবহার মোটামুটি স্থিতিশীল থাকলেও শস্যের মজুদ কমতে পারে। ২০২৬-২৭ বিপণন বর্ষে শেষে বিশ্বে মোট শস্যের মজুদ দাঁড়াতে পারে ৬১ কোটি ৯০ লাখ টনে। আগের বছরের তুলনায় তা ৩ শতাংশ কম।
রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক গম বাণিজ্যেও প্রভাব পড়তে পারে। আইজিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বিপণন বর্ষে গমের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ৭ শতাংশ কমে ১৯ কোটি ৯০ লাখ টনে নামতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড উৎপাদন এবং দক্ষিণ আমেরিকায় ভালো ফলনের প্রত্যাশায় বিশ্বব্যাপী সয়াবিনের উৎপাদন ২ শতাংশ বেড়ে ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। এ সময়ে সয়াবিনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রেকর্ড ১৯ কোটি টনে উন্নীত হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে এশিয়ার বাড়তি চাহিদা।
অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে চলতি বিপণন বর্ষে চালের উৎপাদন ২ শতাংশ কমে ৫৩ কোটি ৬০ লাখ টন হতে পারে। এদিকে সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনের তুলনায় আইজিসির শস্য ও তৈলবীজ মূল্যসূচক কমেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। তবে গত বছরের অক্টোবরের তুলনায় সূচকটি এখনো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সয়াবিনের দাম ২৩ এবং গম ও চালের দাম ২০ শতাংশ করে বেড়েছে।