ফ্রান্সে শ্রমিক ধর্মঘটে চাপ বাড়ছে মাখোঁর ওপর

ফ্রান্সজুড়ে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ধর্মঘটে নামেন দেশটির শিক্ষক, ট্রেনচালক, ফার্মাসিস্ট ও হাসপাতালের কর্মীরা। এমনকি কিশোররাও এখন নিজেদের হাইস্কুল অবরোধ করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আর্থিক কৃচ্ছসাধন তথা বাজেট কাটছাঁটের আশঙ্কা থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেয় দেশটির শ্রমিক ইউনিয়নগুলো

ফ্রান্সজুড়ে বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ধর্মঘটে নামেন দেশটির শিক্ষক, ট্রেনচালক, ফার্মাসিস্ট ও হাসপাতালের কর্মীরা। এমনকি কিশোররাও এখন নিজেদের হাইস্কুল অবরোধ করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, আর্থিক কৃচ্ছসাধন তথা বাজেট কাটছাঁটের আশঙ্কা থেকে এ ধর্মঘটের ডাক দেয় দেশটির শ্রমিক ইউনিয়নগুলো। এসব ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আগের সরকারের প্রণীত আর্থিক পরিকল্পনা বাতিল, জনপরিসরে সরকারি সেবায় ব্যয় বৃদ্ধি, ধনীদের ওপর বাড়তি কর আরোপ এবং পেনশন পেতে দীর্ঘসময় কাজ করার বাধ্যবাধকতা বাতিলের দাবি তোলা হয়েছে।

প্যারিসে অধিকাংশ মেট্রো লাইন সারাদিন বন্ধ রাখার পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয় এ বিক্ষোভ। শুধু সকাল ও বিকেলের অফিসযাত্রীদের চলাচলের সময়ে তা আংশিকভাবে খোলা রাখার কথা জানিয়েছে বিক্ষোভকারীরা। অনেক শিক্ষার্থী কিছু স্কুলের প্রবেশপথ অবরোধ করে।

নতেঁতে দিনব্যাপী কর্মসূচীর অংশ হিসেবে আয়োজিত বিক্ষোভ ছবি: রয়টার্স

দেশটিতে চলমান বিক্ষোভ এখন প্রেসিডেন্ট ইম্মানুয়েল মাখোঁর ওপর চাপের মাত্রা ক্রমেই বাড়িয়ে দিচ্ছে। গত সপ্তাহেই ৪৪ বিলিয়ন ইউরোর বাজেট সংকোচন পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে পদত্যাগ করেন দেশটির সদ্যসাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া বাইরু। তার স্থলে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে নিয়োগ দিয়েছেন ইম্মানুয়েল মাখোঁ। দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী এখনো জানাননি, তিনি বাইরুর পরিকল্পনা বহাল রাখবেন না বাতিল করবেন। তবে বিষয়টিতে সমঝোতার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

বিক্ষোভের মধ্যে এক সমাবেশ চলাকালে সিজিটি ইউনিয়নের প্রতিনিধি ও বাসচালক ফ্রেড বলেন, ‘বর্তমান সরকার আর প্রেসিডেন্ট মাখোঁ শ্রমিকদের যেভাবে অবজ্ঞা করছেন, তা চলতে পারে না।’

একই সমাবেশে ৩৩ বছর বয়সী শিক্ষক গায়েতান লেগে জানান, ‘আমি সরকারি সেবার সুরক্ষা চাইতে এখানে এসেছি। বিশেষ করে সরকারি অর্থ যেন সরকারি সেবায়ই ব্যয় হয়, বড় কোম্পানি কিংবা অতিধনীদের কর-সুবিধায় নয়, সে দাবি জানাতে চাই আমি।’

আরও