চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গার টার্মিনালটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী আরো বলেন, ‘সরকারের ১ ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে লালদিয়ায় এপি মুলারের টার্মিনাল নির্মাণ একটি বড় মাইলফলক।’
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, লালদিয়া প্রকল্প ছাড়াও সরকার বঙ্গোপসাগরের উপকূলরেখা জুড়ে আরো বেশ কয়েকটি বড় বন্দর সুবিধা, প্রকল্প এবং লজিস্টিক সেন্টার স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা করছে।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, ‘টার্মিনালটি চালু হলে এটি একসঙ্গে ৬ হাজার টিইইউ পর্যন্ত ধারণক্ষমতাসম্পন্ন জাহাজ পরিচালনা করতে পারবে, যা বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে সরাসরি নোঙর করা জাহাজের সক্ষমতার প্রায় দ্বিগুণ।’
অনুষ্ঠানে এপিএম টার্মিনালসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রমেশ ডেভিড জানান, টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে প্রায় ১০ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে, যা বাংলাদেশের কনটেইনার পরিবহন সক্ষমতায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করবে। এ সুবিধায় থাকবে ৬১৬ মিটার দীর্ঘ জেটি, সাতটি শিপ-টু-শোর ক্রেন, ৩২টি বৈদ্যুতিক রাবার-টায়ারড গ্যান্ট্রি ক্রেন এবং ৪১টি বৈদ্যুতিক টার্মিনাল ট্র্যাক্টর।
কর্ণফুলী নদীর তীরে ৪৯ একর জমির ওপর টার্মিনালটি গড়ে তোলা হবে। এর নির্মাণকাজ তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তিটির মেয়াদ হবে ৩০ বছর, যা পরবর্তী সময়ে আরো ১৫ বছর বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এপিএম টার্মিনালস বিভির গ্লোবাল হেড অব বিজনেস ইমপ্লিমেন্টেশন জেক ক্রেইগ, ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত, চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি আমিরুল হকসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা।