আমাদের দেশ থেকে প্রধানত ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি এ তিন স্তরের শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে যায়। প্রতিটি স্তরের জন্য পৃথক পৃথক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভর্তি প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রথমেই নিজের আগ্রহের বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনার জন্য একটি দেশ নির্বাচন করতে হবে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিষয়ের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র্যাংকিং এবং অঞ্চলভেদে আইটিনির্ভর কর্মক্ষেত্র কেমন রয়েছে তা দেখে দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন করলে ভালো। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং ওই দেশে কাজ করার অনুমোদিত কর্মঘণ্টা সম্পর্কে জানা থাকলে সিদ্ধান্ত নেয়া সহজ হবে। দেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের পর ওই দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করে নেয়া খুব জরুরি।
উচ্চশিক্ষায় বিদেশ গমন করার জন্য নিম্নোক্ত পয়েন্টগুলো সাধারণত আবশ্যিক হয়ে থাকে।
ভাষাভিত্তিক
দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে আইইএলটিএস, টোফেল, পিটিই, সিএই, ভিইউ ইংলিশ ইভ ডুয়োলিংগো-এর ফলাফল
যে
স্তরে পড়তে যাবেন তার পূর্বস্তরের ফলাফলগুলোর তালিকা
আর্থিক
সচ্ছলতার প্রমাণপত্র
স্কলারশিপ
ও ভর্তিসংক্রান্ত তথ্যাবলি
পুলিশ
ক্লিয়ারেন্স
এসওপি
অ্যান্ড জিটিই
ভিসা
সিএসই নিয়ে পড়তে হলে অবশ্যই তাকে গণিতে ভালো হতে হবে এবং উচ্চ মাধ্যমিকে খুব ভালো ফলাফল রাখতে হবে।
ব্যাচেলরে সাধারণত তিন-চার বছরের কোর্সওয়ার্ক থাকে। দেশভেদে এর খরচ ভিন্ন ভিন্ন হবে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাচেলরের জন্য স্কলারশিপ প্রদান করে। তবে এর হার মূল খরচের ২০-৫০ শতাংশের মধ্যে থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় চাকরি করার সুযোগ দেয়া হয়।
মাস্টার্স সাধারণত দুই ধরনের হয়। সাধারণ ও গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স। সিএসইতে মাস্টার্স করার জন্য হাই-লেভেল প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ, ভালো ডাটা স্ট্রাকচার ও অ্যালগরিদম এবং পাইথন, জাভা অথবা ম্যাটল্যাবের ব্যবহার জানা থাকা জরুরি। মেশিন লার্নিং, ডাটা অ্যানালাইসিস বা কম্পিউটার ভিশনের মতো বিষয়গুলোয় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এখন মাস্টার্স অফার করে। দেশভেদে এর খরচও ভিন্ন ভিন্ন হবে। মাস্টার্সেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় স্কলারশিপ প্রদান করে। তবে এর হার মূল খরচের ২০-৫০ শতাংশের এর মধ্যেই থাকে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্সের জন্য সম্পূর্ণ স্কলারশিপও থাকে। শিক্ষার্থীদের জন্য দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন নির্ধারিত কর্মঘণ্টায় চাকরি করার সুযোগ দেয়া হয়।
গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহীদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদনের আগেই একজন প্রফেসরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয়া ভালো। নিজস্ব পছন্দের গবেষণা ক্ষেত্রের সঙ্গে প্রফেসরদের গবেষণার ক্ষেত্র ও সাম্প্রতিক গবেষণা মিলিয়ে দেখে যোগাযোগ করা উচিত। ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসররা প্রতিনিয়ত অনেক অনেক ই-মেইল পেয়ে থাকেন। তাই আপনার গবেষণার সঙ্গে তার গবেষণার যদি কোথাও সামঞ্জস্যতা থাকে তা অবশ্যই তুলে ধরবেন। এতে পজিটিভ ফিডব্যাক পাওয়ার হার বাড়ে। গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি করার জন্য সাধারণত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জার্নালে নিজস্ব প্রকাশনা থাকতে হয়। তাই গুগল স্কলার, লিংকডইন ও রিসার্চ গেটে নিজস্ব প্রোফাইল তৈরি করে তা নিয়মিত হালনাগাদ করা উচিত। পিএইচডির জন্য অনেক স্কলারশিপ থাকে। স্কলারশিপের জন্য অবশ্যই আবেদন করা উচিত। এছাড়া গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট পদ থাকে। যেগুলো থেকে ভালো আয় করা সম্ভব। সিএসইতে পিএইচডি করার জন্য ভালো প্রোগ্রামিং জ্ঞান থাকা দরকার। কম্পিউটার ভিশন, মেশিন লার্নিং, বায়োইনফোরমেটিকস, এনএলপি, আইওটি, ক্লাউড কম্পিউটিং, কম্পিউটার সিকিউরিটি, ব্লকচেইন প্রযুক্তিসহ নানা বিষয়ে বিশ্বব্যাপী গবেষণা হচ্ছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবকে সামনে রেখে প্রায় সব ক্ষেত্রের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় সাধনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এর দরুন নতুন নতুন গবেষণার ক্ষেত্রে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা বেড়ে চলছে। পিএইচডি সম্পন্নের পর অ্যাকাডেমিক সেক্টরে কিংবা ইন্ডাস্ট্রিতে ভালো বেতনের চাকরি রয়েছে।
অনেক দেশেই কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে। তাই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য বিশ্বের যেকোনো দেশে চাকরি করা এখন অনেক সহজ।
একিউএম সালাউদ্দিন পাঠান
পিএইচডি শিক্ষার্থী, দি ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস, অস্ট্রেলিয়া