সংগীত

মিউজিক নিয়ে পড়তে চাইলে...

অবসরে কী করেন? কাউকে প্রশ্ন করলে অনেকেই হয়তো তার পছন্দের তালিকায় গানের কথা বলবেন।

সংগীতপ্রেমী মানুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। সংস্কৃতির বড় একটি অংশজুড়েই রয়েছে গান কিংবা সংগীত। আমাদের ব্যক্তিগত জীবনে বিনোদনের অংশ এখন সংগীত। আপনি যদি একজন সংগীতপ্রেমী হন আর আপনার ধ্যান-ধারণা সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দু হয় সংগীত, তাহলে দেশে-বিদেশে পড়তে পারেন সংগীত বিষয়ে। সংগীত বিষয়ে প্রায়োগিক জ্ঞান প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের কোর্সগুলো সাজানো হয়েছে।

দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ, শান্ত মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি এবং রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ঢাকার আগারগাঁওয়ে অবস্থিত সরকারি সংগীত কলেজেও স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি দেয়া হয়।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতে চার বছরের বিএ, এক বছরের এমএ, দুই বছরের এমফিল, চার বছরের পিএইচডি কোর্স রয়েছে। এক বছর মেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্সও রয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সংগীতে শুধু চার বছরের স্নাতক ও দুই বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স রয়েছে। স্নাতক কোর্সে বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে ২-৩ লাখ টাকা এবং স্নাতকোত্তরে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা খরচ হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সাধারণত সংগীত বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ এবং সংগীতের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও ক্রমবিকাশ সম্পর্কে কোর্স থাকে। শিক্ষার্থীদের সংগীত বিষয়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার পাশাপাশি সাহিত্য, ইতিহাস ইত্যাদি সম্পর্কেও পাঠদান করা হবে। বিশেষ করে রবীন্দ্রসংগীত, নজরুলগীতি, লোকসংগীত, উচ্চাঙ্গসংগীত ও পঞ্চকবির গান। সংগীতের ইতিহাস ও বিভিন্ন প্রেক্ষাপট। শব্দবিজ্ঞান, নৃত্যকলা, নাটক প্রভৃতি পড়ানো হয়। এছাড়া সিলেবাসভুক্ত বিষয়ের মধ্যে রয়েছে যোগাযোগ ও সংগীতের ধারণা, ইংরেজি, কম্পিউটার বিজ্ঞান, সংগীতের ইতিহাস, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সংগীতের ধারণা ও সংগীতের মনোবিজ্ঞান, বিভিন্ন পালাকারদের জীবনী ও বিভিন্ন ঘরানার বাদনশৈলী। এর বাইরে বাংলা সংগীত বিষয়ে গবেষণায় আগ্রহ বাড়াতে মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের গবেষণা পদ্ধতি শেখানো হয়।

সংগীতে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করা শিক্ষার্থীরা সরকারি-বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি সংগীত নিয়ে গবেষণা, সংগীতচর্চা ও পরিবেশনকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। বর্তমানে এ বিভাগ থেকে পাস করা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্র্যাজুয়েট স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এছাড়া অনেকে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংগীত পরিবেশন করছেন।

দেশে সংগীত বিষয়ে উচ্চশিক্ষার বর্তমান পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে ঢাবি সংগীত বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান দেবপ্রসাদ দা বলেন, ‘‌সংগীতচর্চার সুযোগ বেড়েছে। সংগীতের শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র আগের চেয়ে অনেক প্রসারিত হয়েছে, আরো প্রসারে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সংগীতচর্চাকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে শিক্ষার্থীদের আগ্রহী করতে চাই। বেহালা, এসরাজ, সেতার, বাঁশি, পাখোয়াজের মতো হারাতে বসা বাদ্যযন্ত্রগুলো বাংলা সংগীতচর্চার জগতে ফিরিয়ে আনতে চাই আমরা।’

আরও