আইইউবিএটির জন্য এ আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন কতটা তাৎপর্যপূর্ণ?
আইইউবিএটির জন্য এটি অত্যন্ত গর্বের একটি অর্জন। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই আমরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছি। এ অ্যাক্রেডিটেশন সেই দীর্ঘ পথচলার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা, কারিকুলাম, শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রমাণিত। এটি শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা বৃদ্ধি করেনি, আমাদের শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশ্বব্যাপী নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
এ স্বীকৃতি পেতে বিশ্ববিদ্যালয়কে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী ছিল?
এটি একদিনে অর্জিত হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে আমাদের শিক্ষক, বিভাগগুলো এবং প্রশাসন একসঙ্গে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। আমরা আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) বাস্তবায়ন করেছি, ল্যাব ও গবেষণা সুবিধা উন্নত করেছি, কারিকুলাম নিয়মিত আপডেট করেছি এবং শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে প্রতিটি প্রক্রিয়াকে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর করা। তবে আমি বিশ্বাস করি, আইইউবিএটির সবচেয়ে বড় শক্তি হলো আমাদের টিমওয়ার্ক এবং মানসম্মত শিক্ষার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন শিক্ষার মান উন্নয়নে কীভাবে ভূমিকা রাখবে?
এ স্বীকৃতি আমাদের জন্য শুধু একটি অর্জন নয়, বরং আরো ভালো করার দায়িত্বও। আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন আমাদেরকে নিয়মিতভাবে নিজেদের মূল্যায়ন করতে উৎসাহিত করবে। এর ফলে শিক্ষাক্রম আরো আধুনিক হবে, শিক্ষাদান পদ্ধতিতে নতুনত্ব আসবে এবং শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি নিয়েই বের না হোক, তারা যেন দক্ষ, আত্মবিশ্বাসী এবং বৈশ্বিক কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হয়ে বের হয়।
বিদেশী শিক্ষার্থী আকর্ষণে এটি কতটা সহায়ক?
আইইউবিএটি শুরু থেকেই একটি আন্তর্জাতিক মানসিকতা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে পড়াশোনা করছে। এ আন্তর্জাতিক অ্যাক্রেডিটেশন সেই অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করবে। বিদেশী শিক্ষার্থীরা সাধারণত এমন বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নিতে আগ্রহী হয়, যার শিক্ষা কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং যার ডিগ্রির বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
এ স্বীকৃতির ফলে আইইউবিএটির একাডেমিক মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরো দৃশ্যমান হবে। এর মাধ্যমে বিদেশী শিক্ষার্থী, আন্তর্জাতিক একাডেমিক অংশীদার এবং অভিভাবকদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং বৈশ্বিক একাডেমিক সংযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়াতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কী কী পরিকল্পনা আছে?
বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু একাডেমিক জ্ঞান অর্জন করলেই হয় না, তাদেরকে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্যও প্রস্তুত হতে হয়। সে কারণে আমরা ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতাকে আরো বিস্তৃত ও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য আরো উন্নত ইন্টার্নশিপ ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিংয়ের সুযোগ তৈরি, যৌথ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প পরিচালনা এবং শিল্প খাতের অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের একাডেমিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা। পাশাপাশি কারিকুলাম উন্নয়নের ক্ষেত্রেও শিল্প খাতের মতামতকে গুরুত্ব দেয়া হবে, যাতে আমাদের গ্র্যাজুয়েটরা সময়ের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
আন্তর্জাতিক এ স্বীকৃতি ও মান ধরে রাখতে কী ধরনের নীতি গ্রহণ করবেন?
আমাদের মূল লক্ষ্য হবে ধারাবাহিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক মান ধরে রাখতে হলে নিয়মিত মূল্যায়ন, কারিকুলাম উন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অব্যাহত রাখতে হবে। আমরা এমন একটি শিক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে চাই, যেখানে গুণগত শিক্ষা, নৈতিকতা, গবেষণা ও উদ্ভাবন সমানভাবে গুরুত্ব পায়। এ অর্জন আমাদের জন্য শেষ নয়, বরং আরো এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা।