শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) একমাত্র পরিবেশবাদী সংগঠন ‘গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি’ (জিইএস) দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ঠিক এ মানবিক কাজটিই করে যাচ্ছে। ‘মানবতার জন্য শিক্ষা’ এ মূলমন্ত্রকে বুকে ধারণ করে ২০১২ সালের ১১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হওয়া সংগঠনটি শুধু ক্যাম্পাসের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো সিলেট অঞ্চলে পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় কাজ করছে।
সংগঠনটির সবচেয়ে মানবিক ও রোমাঞ্চকর দিক হলো এর ‘রেস্কিউ উইং’। আধুনিক অবকাঠামো বা প্রাতিষ্ঠানিক বড় কোনো তহবিল নেই, নেই বন্যপ্রাণী ধরার অত্যাধুনিক সরঞ্জাম। তবুও কেবল বুকভরা ভালোবাসা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে কাজ করে যাচ্ছেন এর সদস্যরা। ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের জনপদ থেকে আহত পেঁচা, চিল, গন্ধগোকুল কিংবা বিপন্ন কুকুর-বিড়াল উদ্ধার করে পরম মমতায় সারিয়ে তোলেন তারা। কখনো কখনো গভীর রাতে সাধারণ মানুষের একটি ফোন পেয়েই ঘুম ভেঙে ছুটে যান অজানা কোনো উদ্ধার অভিযানে। আহত প্রাণীকে পশু চিকিৎসকের কাছে নেয়া, পরম যত্নে পরিচর্যা করা এবং সুস্থ হলে আবার প্রকৃতির মুক্ত আকাশে ডানা মেলার সুযোগ করে দেয়া, এ যেন তাদের প্রতিদিনের ব্রত। এ বিশাল কর্মযজ্ঞের সিংহভাগ ব্যয়ই আসে শিক্ষার্থীদের নিজেদের পকেটের টাকা আর স্বেচ্ছাশ্রম থেকে।
শাবিপ্রবির গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটির সভাপতি ফারুক কাজী বলেন, ‘আমাদের কার্যক্রমের অধিকাংশই পরিচালিত হয় সদস্যদের ব্যক্তিগত অর্থায়ন ও স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে। কোনো বড় আর্থিক সহায়তা ছাড়াই প্রাণীর জীবন বাঁচাতে দিন-রাত পরিশ্রম করেন সংগঠনের সদস্যরা। অনেক সময় সাধারণ মানুষের ফোন পেয়ে গভীর রাতেও উদ্ধার অভিযানে ছুটে যান তারা। মানবিক দায়িত্ববোধ ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসাই আমাদের এ কার্যক্রমের মূল শক্তি।’
বন্যপ্রাণী উদ্ধারের পাশাপাশি একটি সবুজ ও টেকসই পৃথিবী গড়তে প্রতিনিয়ত লড়ে যাচ্ছে এ সংগঠন। প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে কাজ করছে তারা। বিভিন্ন কর্মশালা ও সেমিনারের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে পরিবেশবান্ধব জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হতে উদ্বুদ্ধ করছে গ্রিন এক্সপ্লোর সোসাইটি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী সংগঠনের সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে পরিবেশ রক্ষার এ লড়াইকে তারা ছড়িয়ে দিচ্ছে বৃহত্তর সমাজে।