এজন্য প্রতিটি প্রোগ্রামে আউটকাম বেজড এডুকেশনের (ওবিই) ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের শেখার ফলাফল নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন করা হয়। কোর্স শেষে শুধু পরীক্ষা নয়, বরং অ্যাসাইনমেন্ট, প্রজেক্ট, প্রেজেন্টেশন এবং ক্লাস পারফরম্যান্সের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি যাচাই করা হয়। পাশাপাশি নিয়মিত ইন্ডাস্ট্রি ফিডব্যাক, একাডেমিক অডিট এবং অভ্যন্তরীণ রিভিউ সিস্টেমের মাধ্যমে পুরো শিক্ষা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় মূল্যায়নের কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ছিল?
অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং বিষয় ছিল পুরো সিস্টেমকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ‘প্রমাণভিত্তিকভাবে’ উপস্থাপন করা। অর্থাৎ শুধু ভালো কার্যক্রম থাকাই যথেষ্ট ছিল না, বরং প্রতিটি প্রক্রিয়ার ডকুমেন্টেশন, ফলাফল বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রমাণ দেখাতে হয়েছে। এটি একটি সময়সাপেক্ষ ও সূক্ষ্ম প্রক্রিয়া ছিল, তবে এর মাধ্যমে আমাদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাঠামো আরো সুসংগঠিত হয়েছে।
ল্যাব সুবিধা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়নে কী কী পরিবর্তন আনা হয়েছে?
অ্যাক্রেডিটেশন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ল্যাব ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার ওপর আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। এ সময়ে বিভিন্ন বিভাগে আধুনিক যন্ত্রপাতি সংযোজন, প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপগ্রেড এবং কিছু ক্ষেত্রে নতুন ল্যাব সেটআপ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা যেন বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং পরিবেশের কাছাকাছি অভিজ্ঞতা পায়, সে অনুযায়ী ল্যাব কার্যক্রমকে আরো প্রজেক্টভিত্তিক ও প্র্যাকটিক্যালভাবে সাজানো হয়েছে। এছাড়া ল্যাব ব্যবহারের নিয়ম ও তত্ত্বাবধান আরো সুসংগঠিত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা নিয়মিতভাবে হাতেকলমে কাজ করার সুযোগ পায় এবং তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরো শক্তভাবে গড়ে ওঠে।
এ স্বীকৃতি গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির বাজারে কতটা বাড়তি সুবিধা দেবে? আন্তর্জাতিক চাকরি বা উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এর প্রভাব কী হবে?
এ স্বীকৃতি আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের জন্য একটি বড় ধরনের ইতিবাচক সংযোজন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রোগ্রাম থেকে ডিগ্রি অর্জন করলে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে বিদেশে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা বা পেশাগত সুযোগের ক্ষেত্রেও এটি বাড়তি সুবিধা তৈরি করবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন শিক্ষা ও দক্ষতার স্বীকৃতি থাকায় আমাদের শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরো শক্ত অবস্থানে থাকবে।
এ স্বীকৃতি শিক্ষার্থীদের স্কিল সেট উন্নয়নে কীভাবে সহায়তা করবে?
এ অ্যাক্রেডিটেশনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে সরাসরি শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতার ওপর। যেহেতু আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করতে হয়, তাই এখন থেকে আমাদের প্রতিটি প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট লার্নিং আউটকাম নিশ্চিত করা হচ্ছে—অর্থাৎ একজন শিক্ষার্থী কী জানবে এবং কী করতে পারবে, তা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত। এর ফলে শিক্ষার্থীরা আর শুধু পরীক্ষাভিত্তিক জ্ঞানেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং তাদের মধ্যে সমস্যা বিশ্লেষণ, বাস্তব জীবনভিত্তিক সমাধান, প্রজেক্ট ওয়ার্ক, প্রেজেন্টেশন এবং ইন্ডাস্ট্রি-রেডি স্কিল আরো শক্তভাবে গড়ে উঠবে। একই সঙ্গে মূল্যায়ন পদ্ধতিও আরো প্র্যাকটিক্যাল ও দক্ষতাভিত্তিক হওয়ায় শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বাস্তবভাবে পরিমাপ ও উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে।
ইন্ডাস্ট্রি-রিলেভেন্ট স্কিল নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে?
আমরা সবসময় চেষ্টা করেছি যাতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে পারে। এজন্য ইন্টার্নশিপ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ভিজিট, ক্যাপস্টোন প্রজেক্ট, ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা এবং ইন্ডাস্ট্রি এক্সপার্টদের সম্পৃক্ততার ওপর জোর দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যা নিয়ে কাজ করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে তারা চাকরির বাজারের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারে।