ইউআইইউ সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি গবেষণায় দেড় দশকে শতাধিক সফল প্রকল্প

জলবায়ু পরিবর্তন এবং জ্বালানি সংকটের এ যুগে বিশ্ব যখন বিকল্প শক্তির পথে হাঁটছে, তখন বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই।

আর এ অগ্রযাত্রায় কাজ করছে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চ (সিইআর)। ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ গবেষণা কেন্দ্রটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় ১০০টিরও বেশি প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

এ গবেষণা কেন্দ্রের নিজস্ব যাবতীয় কার্যক্রম চলে সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে। কেবল তাত্ত্বিক গবেষণা নয়, হাতেকলমে কাজ করার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় এখানে গড়ে তোলা হয়েছে একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি। সম্প্রতি হুয়াওয়ের অর্থায়নে এখানে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘হুয়াওয়ে-সিইআর, ইউআইইউ সোলার ল্যাব’, যা বাংলাদেশে প্রথম নবায়নযোগ্য শক্তি সংরক্ষণের সুযোগ সংবলিত ল্যাব।

ইউআইইউর ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক সিইআরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরীর হাত ধরেই ২০১৭ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবার সূর্যের আলো থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়। জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে ৩ দশমিক ২৮ মেগাওয়াটের সেই বিশাল সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের নকশা ও পরামর্শক ছিল এই সিইআর। এছাড়া কাপ্তাইয়ের সোলার প্যানেলসহ দেশের অধিকাংশ বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের নকশাই তৈরি হয়েছে এ কেন্দ্র থেকে।

সিইআরের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘দেশের ১৭টি দুর্গম চরাঞ্চলে যেখানে বিদ্যুৎ পৌঁছানো একসময় অসম্ভব ছিল, সেখানে সিইআরের নকশা করা মিনি গ্রিড সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এ উদ্ভাবনী প্রযুক্তি এখন কেবল দেশের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই; নাইজেরিয়া ও কেনিয়ার মতো দেশগুলোতেও আমার নকশা করা সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র ব্যবহৃত হচ্ছে।’

গবেষণার উৎকর্ষে সিইআর বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। ২০১৬ সালে ‘পিয়ার টু পিয়ার স্মার্ট ভিলেজ গ্রিড’ শীর্ষক একটি গবেষণা প্রকল্প মরক্কোতে জাতিসংঘের ২২তম জলবায়ু সম্মেলনে ‘ইউএন মোমেন্টাম ফর চেঞ্জ’ অ্যাওয়ার্ড এবং জার্মানির মিউনিখে ‘ইন্টারসোলার অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’ লাভ করে। শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরীর ‘স্মার্ট সোলার ইরিগেশন সিস্টেম’ শীর্ষক আরো একটি গবেষণা প্রকল্প বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘অদম্য বাংলাদেশ-২০১৬’ পুরস্কার লাভ করে।

যেসব প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছানো অসম্ভব, সেখানে উদ্ভাবনী নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পে বেশ সাফল্য দেখিয়েছে ইউআইইউর জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্র। ২০১৭ সালে জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহে ইন্টার ইউনিভার্সিটি ইনোভেশন কম্পিটিশনে রানার আপ অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন জ্বালানি গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী। ২০১৮ সালে জাতীয় বিদ্যুৎ সপ্তাহ উপলক্ষে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ইনোভেশন প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান লাভ করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ‘ডিমান্ড রেসপন্স অ্যানাবলড স্মার্ট গ্রিড’ প্রকল্প। এ উদ্ভাবনী প্রকল্প স্বয়ংক্রিয়ভাবে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের লোড ব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ চুরির বার্তা সেবাদাতার কাছে পাঠাতে পারবে। এছাড়া মোবাইলের মাধ্যমে গ্রাহকের বৈদ্যুতিক সেবার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা যাবে। গত ৯ অক্টোবর এ প্রকল্প গবেষণার জন্য প্রথমবারের মতো প্রায় ৪ কোটি টাকার গবেষণা অনুদান দিয়েছে বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কেন্দ্র।

সিইআর কেবল প্রযুক্তি উদ্ভাবনই করছে না, বরং আগামীর দক্ষ প্রকৌশলী তৈরিতেও কাজ করছে। এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার প্রকৌশলীকে সোলার প্রযুক্তির ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। হুয়াওয়ের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বর্তমানে ডিজিটাল এনার্জি ও স্মার্ট এনার্জি সলিউশনের ওপর উন্নত প্রশিক্ষণ কোর্সও পরিচালিত হচ্ছে।

আরও