জনস্বাস্থ্য অধ্যয়নে বিশ্বসেরা

শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়

জনস্বাস্থ্য বা পাবলিক হেলথ বর্তমানে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন একটি পেশা।

বিশেষ করে বৈশ্বিক মহামারী-পরবর্তী সময়ে রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করার সুযোগ বহু গুণ বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য শিক্ষায় নিজেকে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে বিদেশের নামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হতে পারে আপনার সেরা গন্তব্য। নিচে জনস্বাস্থ্য শিক্ষায় নেতৃত্ব দিচ্ছে এমন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা স্কলারশিপ সুবিধা বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটি

জনস্বাস্থ্য শিক্ষার কথা বললে সবার প্রথমেই আসে ‘জনস হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথ’-এর নাম। ১৯১৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটি কয়েক দশক ধরে বিশ্ব র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। এখানে মূলত এপিডেমিওলজি, হেলথ পলিসি এবং মেন্টাল হেলথ গবেষণায় রয়েছে বিশেষায়িত সুযোগ। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্কলারশিপ নিয়ে মাস্টার অব পাবলিক হেলথ, মাস্টার অব সায়েন্স এবং পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে ‘সোমার স্কলারস’ প্রোগ্রাম রয়েছে, যা সম্পূর্ণ টিউশন ফি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বহন করে। এছাড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে নিড-বেজড আর্থিক সহায়তা ও আংশিক ফান্ডিংয়ের সুবিধা।

হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি

হার্ভার্ড টিএইচ চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ মূলত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য এবং নীতিনির্ধারণী গবেষণার জন্য পরিচিত। এ প্রতিষ্ঠানের গ্র্যাজুয়েটরা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা বড় এনজিওগুলোতে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। হার্ভার্ডের এক বছর বা দুই বছর মেয়াদি এমপিএইচ প্রোগ্রাম এবং ডক্টর অব পাবলিক হেলথ অত্যন্ত জনপ্রিয়। হার্ভার্ডে পড়ার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ‘ফুলব্রাইট স্কলারশিপ’-এর জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গ্রান্ট ও রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমে টিউশন ফি কমানোর সুযোগ রয়েছে।

লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন

ইউরোপ তথা যুক্তরাজ্যের মধ্যে জনস্বাস্থ্য শিক্ষার জন্য এটি সবচেয়ে প্রাচীন ও নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ট্রপিক্যাল বা গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগ এবং সংক্রামক ব্যাধি নিয়ে গবেষণায় এদের কোনো বিকল্প নেই। এমএসসি ইন পাবলিক হেলথ, গ্লোবাল হেলথ পলিসি এবং ইনফেকশাস ডিজিজ ইত্যাদি প্রোগ্রাম রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। এখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ‘শেভেনিং স্কলারশিপ’ এবং ‘কমনওয়েলথ স্কলারশিপ’ অত্যন্ত কার্যকরী। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘এলএসএইচটিএম নেক্সট জেনারেশন স্কলারশিপ’ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ টিউশন ফি ও ট্যাক্স-ফ্রি লিভিং অ্যালাউন্স প্রদান করে।

ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট

মেডিসিন ও হেলথ সায়েন্সে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট। মজার ব্যাপার হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নির্বাচন করে এ প্রতিষ্ঠানেরই একটি বিশেষ কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে মাস্টার অব পাবলিক হেলথ ইন এপিডেমিওলজি এবং হেলথ ইকোনমিকস, পলিসি ও ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি প্রোগ্রাম রয়েছে। সুইডেন সরকারের দেয়া ‘এসআই স্কলারশিপ’ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘ক্যারোলিনস্কা গ্লোবাল মাস্টার্স স্কলারশিপ’ রয়েছে। এটি মূলত মেধাবী নন-ইউরোপীয় শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করে থাকে।

ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটন

জনস্বাস্থ্য শিক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এটি অন্যতম শীর্ষস্থানে রয়েছে। বিশেষ করে হেলথ মেট্রিক্স ও গ্লোবাল হেলথ ডেটা অ্যানালাইসিসে এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এখানে মাস্টার অব পাবলিক হেলথ ইন গ্লোবাল হেলথ, এনভায়রনমেন্টাল হেলথ এবং বায়োস্ট্যাটিস্টিকস প্রোগ্রাম রয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষার্থীদের জন্য ডাইভারসিটি ফেলোশিপ ও ডিপার্টমেন্টাল স্কলারশিপের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা রোটারি ফাউন্ডেশন বা ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মতো বিভিন্ন এক্সটারনাল ফান্ডের মাধ্যমে এখানে পড়ার খরচ মেটাতে পারেন।

আরও