জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগে ভর্তি হয়ে নিজের সংগীতচর্চাকে বৃহত্তর পরিসরে মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার স্বপ্ন নিয়েই যাত্রা করেন সারাব আজমান। শৈশব থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার গভীর অনুরাগ। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের নানা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি বারবার শাণিত করেছেন নিজের আত্মবিশ্বাস ও শিল্পীসত্তা। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়েও উচ্চশিক্ষার জন্য বেছে নেন সংগীতকেই। খুব অল্প সময়েই বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার কাছে প্রিয় হয়ে ওঠে তার মায়াবী কণ্ঠের স্বতন্ত্র গায়কী।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকলে প্রতিভার পূর্ণ বিকাশ সম্ভব নয়, এমন উপলব্ধির কথাই তুলে ধরেন সারাব আজমান। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের সংগীত বিভাগে পর্যাপ্ত প্র্যাকটিক্যাল প্রশিক্ষণ ছিল বটে, তবে সেটা যথেষ্ট নয়। বর্তমান সময়ে একজন শিল্পীর জন্য মানুষের কাছে পৌঁছানো অত্যন্ত জরুরি এবং তা যত দ্রুত শুরু করা যায় ততই ভালো। কারণ প্রতিযোগিতা ব্যাপক। এ ভাবনা থেকেই ২০২৩ সালে আমি ‘চ্যানেল আই সেরাকণ্ঠ’-এ অংশগ্রহণ করি। বিজয়ী না হলেও কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছাতে পেরেছিলাম এবং দর্শক মহলে উল্লেখযোগ্য পরিচিতি অর্জন করি। সেটিই আমার জন্য একটি আলাদা মঞ্চ তৈরি করে দেয়।’
এ যাত্রার সূচনা আরো আগে। ২০১০ সালেই সারাব আজমানের কণ্ঠে প্রকাশিত হয় প্রথম মৌলিক গান। এরপর দেশাত্মবোধক, রবীন্দ্র, নজরুল ও লোকসংগীতসহ অর্ধশতাধিক গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। তার মৌলিক গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘সত্যিকারের তুই চাই’ ও ‘তুই আমার শুরু’। বর্তমানে সারাব আজমান যুক্তরাষ্ট্রের ‘সেন্ট্রাল মিশিগান’ বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ স্কলারশিপ নিয়ে অধ্যয়নরত। বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুধু সিজিপিএ যথেষ্ট নয়; এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যারা সংগীত, থিয়েটার বা চলচ্চিত্র নিয়ে পড়তে চান, তাদের জন্য প্রকাশিত কাজ ও একটি সুসংগঠিত আর্টিস্ট প্রোফাইল বড় ভূমিকা রাখে। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের শুরু থেকেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছি এবং নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছি। এটি শুধু স্কলারশিপ অর্জনেই নয়, বরং এখানে ভবিষ্যৎ স্থায়ী হওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক হচ্ছে। শিল্পীদের সর্বত্রই এক ধরনের আলাদা মর্যাদা দেয়া হয়। তাই আমি আমার অনুজদের বলব পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা কারিকুলার কার্যক্রমে সক্রিয় হতে হবে।’
আন্তর্জাতিক পরিসরেও বাংলা গান ও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন সারাব আজমান। সম্প্রতি তার দেশাত্মবোধক গান ‘বাংলাকে খুঁজে পাই’-এর জন্য ‘ভিক্টরি অ্যাওয়ার্ড’, ‘স্টার অ্যাচিভার্স অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘বিজিসিএফ অ্যাওয়ার্ড (প্রমিসিং সিঙ্গার) ২০২৫’সহ একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন। বিদেশের মাটিতেও দেশের গান ও ভাষাকে সামনে রেখে ভবিষ্যতেও কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নিজের স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি।