চুয়েট ভিসিসহ ১১ জন ২৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম আজ সকাল ১০টার দিকে বলেন, আগের দিন থেকে ভবনের পানি, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে ভেতরে অবস্থানকারীদের অধিকাংশই অসুস্থ বোধ করছেন। অনেকের মুঠোফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। বাকিদের ফোনও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। প্রশাসনিক ভবনে উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমসহ ১১ জন ২৩ ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ রয়েছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় অসুস্থতা ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিতে পড়েছেন সেখানে অবস্থানকারীরা। আজ বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের কয়েকজন উপাচার্যসহ অবরুদ্ধ ব্যক্তিদের জন্য খাবার নিয়ে ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তখন ভবনের ভেতরে উপাচার্য, চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা ও অ্যালামনাই সদস্যসহ ১২ জন ছিলেন। পরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ভবন থেকে বের করে নেয়া হয়। এর পর থেকে উপাচার্যসহ ১১ জন সেখানে অবরুদ্ধ রয়েছেন।

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম আজ সকাল ১০টার দিকে বলেন, আগের দিন থেকে ভবনের পানি, বিদ্যুৎসহ সব ধরনের ইউটিলিটি সেবা বন্ধ রয়েছে। এতে ভেতরে অবস্থানকারীদের অধিকাংশই অসুস্থ বোধ করছেন। অনেকের মুঠোফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে। বাকিদের ফোনও বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

উপাচার্যের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে একজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক ও অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়। তাকে ক্যাম্পাসের বাইরে নিতে গেলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। পরে রাত ৪টার দিকে তাকে শহরের উদ্দেশে নেয়া সম্ভব হয়।

এর আগে রাত দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পেয়ে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। এ সময় সাংবাদিকরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন। প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে উচ্চ মাত্রা পাওয়া গেলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

উপাচার্য জানান, দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছিলেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় অন্যরাও ক্লান্ত ও অসুস্থ বোধ করছেন।

সোমবার দিবাগত রাতে ক্যাম্পাসে সংবাদ সম্মেলন করে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তাদের ঘোষণা, উপাচার্য পদত্যাগ করে চলে গেলে প্রশাসনিক ভবনের তালা খুলে দেয়া হবে। অন্যথায় সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত অবরোধ চলবে।

এদিকে গতকাল রাত ১১টার দিকে রাউজান উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনে গিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার অনুরোধ জানান। তবে আজ সকাল পর্যন্ত অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্তি মেলেনি উপাচার্যসহ অন্যদের। ভবন থেকে বের হওয়ার জন্য প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে জানিয়েছেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি ও সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অনড় থাকায় চুয়েটে অচলাবস্থা নিরসন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য নিয়োগ দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরদিন থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকরাও যোগ দেন। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে টানা বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষা।

আরও